আর্কাইভ  শুক্রবার ● ১ জুলাই ২০২২ ● ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
আর্কাইভ   শুক্রবার ● ১ জুলাই ২০২২
PMBA
PMBA

শোকাহত ঠাকুরগাঁওয়ে ঘিডোব গ্রাম, গ্রেপ্তার আতঙ্কে  পুরুষশূন্য!

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ০৪:৪৮

আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ঘিডোব কেন্দ্র এলাকায় গুলিতে তিনজনের মৃত্যু হয়। গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। শোক সামলে ওঠার আগেই পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামটি। গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হামিদ মণ্ডল বাদী হয়ে সোমবার (২৯নভেম্বর) দুপুর ১২টায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘিডোব গ্রামের নির্বাচনী সহিংসতা ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৭০০ জনের নামে করা এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রামের পুরুষরা।

গ্রামে এখন থমথমে অবস্থা। গ্রেপ্তার আর পুলিশের ভয়ে কোনো পুরুষ বাড়িতে থাকছেনা।পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। এতে স্বামী ছাড়া সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রামের নারীরা।

সরেজমিনে সনগাঁও ইউনিয়নের ঘিডোব গ্রামে গেলে কথা বলার মতো কোনো পুরুষ পাওয়া যায়নি। তবে এ প্রতিবেদককে দেখে কয়েকজন নারী এসে জানান, গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষেরা বাড়িতে থাকছেন না। এ ছাড়া দিনের বেলা অপরিচিত কেউ লোক পাড়াতে ঘোরাঘুরি দেখলেই পুরুষেরা লুকিয়ে পড়ছে। 

ঘিটোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে গুলির ছিদ্র ও যেখানে সেখানে রক্তের চিহ্ন। যা আগের রাতের সহিংসতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। স্কুলটি এবার ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো। কেন্দ্রর আশেপাশের এলাকায় থমথমে নিস্তব্ধ পরিবেশ। কেউ কান্না করতে চাইলেও হয়তো শব্দের ভয়ে চেপে রেখেছে। অপরিচিত মানুষ দেখলেই ভয়ে সরে যেতে চাইছে। এছাড়াও গ্রাম ঘুরে কিছু ষাটোর্ধ বৃদ্ধ ছাড়া আর কোনো পুরুষ মানুষের দেখা পাওয়া যায়নি।

রাস্তার পাশে ধান কাটায় ব্যস্ত কিছু কৃষি শ্রমিককে ডেকে ঘটনা জানতে চাইলে তাঁরা কাছে আসার সাহস পাচ্ছিলেন না। কমপক্ষে দশ গজ দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলেন তাঁরা। তাঁদের কাদের নামে একজন বলেন, পুলিশ মাঝে মাঝেই এ গ্রামে আসছে, আমরা তাদের দেখে লুকিয়ে যাই। আর রাতে বাইরে থাকি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, ঘিডোব শান্ত প্রকৃতির একটি গ্রাম ছিলো। কিন্তু ভোটের সঠিক ফলাফলের দাবি করাই আমাদের হয়তো ভুল হয়েছে। আমরা সংঘাত চাইনি। তবুও এই নির্বাচনটি আমাদের জন্যে দুঃস্বপ্নের মত এসেছে।

এই নারী জানান, পুলিশ বিজিবির গুলি বর্ষণের পরেই অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তবে মামলা হওয়ার পর থেকে সম্পুর্ণ গ্রামই পুরুষ শূন্য হয়ে গেছে। আমরা নারীরাও ভয় পাচ্ছি। আমরাও নিজেদের নিয়ে আটকের শঙ্কায় আছি। তবে বাড়ি ভিটার মায়ায় যেতে পারনি।

তিনি বলেন, আমরাই মরলাম আবার আমরাই মামলার শিকার হলাম। স্বজন হারানোর ব্যথা আমাদের, আবার গ্রেপ্তারের ভয়ে আমাদেরকেই থাকতে হচ্ছে। আহত স্বজনের চিকিৎসার খরচ আমাদের নিম্ন আয়ে সম্ভব না। উপরন্তু পালিয়ে থাকায় খাবারের জন্যে অর্থ উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শান্তির জীবনের আশাও ভুলে যেতে হচ্ছে।

এই বিষয়ে পীরগঞ্জ থানা পরিদর্শক (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, থানা পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৬০০-৭০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করা হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না

মন্তব্য করুন


Link copied