আর্কাইভ  শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১

স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন লালমনিরহাটের রুমা

শুক্রবার, ৫ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ০৩:৩৩

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বিয়ে হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হত রুমা বেগমের(৩১) স্বামী নুর হোসেন (৩৬)। মাঝে মধ্যেই চিকিৎসক দেখাতেন। প্রায় ৪ বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ হলে রংপুরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্ত্রী। ওইদিন জানতে পারেন স্বামীর দুটো কিডনি অচল হয়েছে। কিছুদিন চিকিৎসার করার পর সুস্থ হলেও স্বাভাবিক হতে পারেনি নুর হোসেন।

রংপুরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা রুমা বেগমকে জানান, নুর হোসেনকে বাঁচাতে হলে কমপক্ষে ১টি কিডনির ব্যবস্থা করতে হবে। কিডনি ব্যাংকে যোগাযোগ করেও কিডনি সংগ্রহ করতে পারেননি। এতে পরিবারটি হতাশ হয়ে পড়ে। স্ত্রী রুমা বেগম মনে করেছিল যে, আর হয়তো তার স্বামীকে বাঁচাতে পারবে না।

গৃহবধু রুমা বেগম বলেন, অনেক চিন্তা করে বুঝতে পেরেছি, আমার কিডনি দিলে স্বামীকে বাঁচানে যাবে। তাই আমি সেচ্ছায় একটি কিডনি স্বামীকে দিয়েছি। এতে আমার পরিবার খুব খুশি হয়েছেন। গত রবিবার (৩১ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় ঢাকার শ্যামলী সেন্টার ফর কিডনি ডিজিসেস (সিকেডি) অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে একসাথে দুই জনেরই অপারেশন করা হয়। অপারেশন করে স্বামীর অচল ১ টি কিডনি ফেলে দিয়ে স্ত্রীর দেওয়া ১টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এখন অনেকটাই ভালো আছেন দুজনেই।

ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মুগলিবাড়ি এলাকায়। মৃত্যু পথযাত্রী স্বামী নুর হোসেন (৩৫) কে স্ত্রী রুমা বেগম নিজের কিডনি দেওয়ায় বিষয়টি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ওই গৃহবধু উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মুগলিবাড়ি গ্রামের নুর হোসেনের (৩৫) স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে রয়েছে । বড় ছেলে রিফাত হোসেন (১১) স্থানীয় বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলে সিফাত হোসেন (৫)।  

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বুড়িমারি ইউনিয়নের মুগলি বাড়ি গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে নুর হোসেনের (৩৫)সাথে প্রায় ১৪ বছর আগে একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের উফারমারা মাছির বাজার এলাকার সহিদার রহমানের মেয়ে রুমা বেগমের (৩১) বিয়ে হয়। প্রায় ৪ বছর আগে কিডনি খারাপের বিষয় জানতে পেরে রংপুরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন। প্রায় ৫ মাস আগে নুর হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে চিকৎসক দেখানো হয়। সেখানে ডাক্তার বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। পরীক্ষা- নিরীক্ষার পরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎক জানান তাঁর- দু'টি কিডনি অচল হয়ে গেছে। রোগীকে বাঁচাতে হলে কমপক্ষে ১টি কিডনির ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎকের পরামর্শে তারা বিভিন্ন কিডনি ব্যাংকে যোগাযোগ করেও কিডনি সংগ্রহ করতে পারেননি। এতে পরিবারটি হতাশ হয়ে পড়ে। এ সময় স্বামী নুর হোসেনের সাথে তার স্ত্রীর রুমা বেগমের কিডনি মিলে যায়। এ অবস্থায় স্বামীকে বাঁচাতে গৃহবধূ রুমা বেগম নিজের ১ টি কিডনি দেন। গত রবিবার (৩১ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় ঢাকার শ্যামলী সেন্টার ফর কিডনি ডিজিসেস (সিকেডি) অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে একসাথে দুই জনেরই অপারেশন করা হয়। অপারেশন করে স্বামীর অচল ১ টি কিডনি ফেলে দিয়ে স্ত্রীর দেওয়া ১টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।

রুমা বেগমের মা আমিনা বেগম বলেন,‘ আমাকে খুব ভালো লাগতেছে। এ রকম বিপদে রুমার মতো প্রত্যেক স্ত্রী তাঁর স্বামীর পাশে থাকা উচিত। আমি ও আমার স্বামী আমার মেয়েকে তাঁর স্বামী (জামাইকে) কিডনি দিতে উৎসাহ দিয়েছি।

এ বিষয়ে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর ইসলাম বলেন,‘ এটি একটি বিরল উদারণ। এ রকম স্বামী ভক্ত স্ত্রী দেখিনি। দোয়া করি মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের উভয়কে দ্রুত সুস্থথা দান করুক। স্ত্রীর কিডনি দিয়ে স্বামীর প্রাণ বাঁচানোর ঘটনায় এলাকায় অনেকে ওই গৃহবধুর প্রশংসা করছেন।

মন্তব্য করুন


Link copied