আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ৩০ জুন ২০২২ ● ১৬ আষাঢ় ১৪২৯
আর্কাইভ   বৃহস্পতিবার ● ৩০ জুন ২০২২
PMBA
PMBA

নীলফামারীতে ঝড়ে গাছ পড়ে ৯ দিন ধরে অবরুদ্ধ একটি পরিবার

বুধবার, ২৫ মে ২০২২, বিকাল ০৬:১৫

স্টাফ রিপোর্টার,নীলফামারী॥ সরকারি মূল্যবান গাছ। ঝড়ে একটি পরিবারের বসতবাড়িকে দুমরেমুচরে দিয়েছে। গাছের ডাল কাটতে গেলেও মামলা খাবার ভয় আছে। এই কারনে গাছটি অপসরন করতে পারছেনা ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারটি। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদকে লিখিত ভাবে জানালেও গাছটি সরানোর কোন নাম নেই। ফলে ঘটনার ৯ দিন অতিবাহিত হলেও বুধবার(২৫ মে) পর্যন্ত গাছটি সেই অসহায় পরিবারটির বসতভিটার ঘরের উপর পড়ে রয়েছে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ১৭ মে সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কিষামত গোড়গ্রাম গ্রামে নজরুল ইসলামের বাড়ীর ওপর ঝড়ে বড়একটি আম গাছ ভেঙ্গে পড়ে। সরকারি গাছ হওয়ায় ওই পরিবার বা এলাকাবাসী পারছেন না অপসারণ করতে। ফলে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে গাছের চাপায় ভেঙ্গেপড়া ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে শিশুসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে।

ওই পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঝড়ে গাছটি ভেঙ্গেপড়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। এতে কোন কাজ না হওয়ায় গত ২২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানাই। গাছের চাপায় বাড়িটির তিনটি ঘরই দুমড়ে মুচড়ে পড়ে আছে। নিরুপায় পরিবারের সদস্যদের ওই ভাঙ্গা ঘরেই বসবাস করছেন।

এসময় নজরুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ঝড়ের দিন বড় আম গাছটি  একসঙ্গে তিনটি বসতঘরে উল্টে পড়ে। ঘটনাটি রাতের হওয়ায় ঘরের ভেতর আমরা সকলে আটকা পড়ি। প্রতিবেশীরা এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে। কিন্তু ওই গাছটি সরকারি হওয়ায় এখন অপসারণ করতে পারছি না। পাশপাশি সরকারি লোকজনকে জানানোর হলেও তারা অপসারণ না করায় ৯দিন ধরে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। গত সোমবার সন্ধ্যার আগে উপজেলা প্রশাসনের দুইজন কর্মচারী এসে পরিদর্শন করে গেলেও বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেশি আব্দুল লতিফ (৫০) বলেন, দিনমজুর ওই পরিবারটি গত ৯দিন ধরে জিম্মি দশায় পড়ে আছে। আশ্রয় নেয়ার মতো কোনো জায়গা না থাকায় বৃষ্টি বাদলের মধ্যে ভাঙ্গা ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। সরকারি গাছ হওয়ায় আমরা প্রতিবেশিরাও গাছটি সরাতে পারছি না। সরকারি লোকজনকে জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করছেন না।

খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান প্রধান বলেন, গাছটি অপসারণ করা জরুরী। আমরা গাছটি কাটার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদে রেজুলেশন করে গত রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়েছি। সরকারি গাছ হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, আমি জানার পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গাছটি অপসারণ করতে বলেছি। এটা সব জায়গায় জরুরী অপসারণ করা হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান এখনো সেটি অপসারন না করার কারণ জানি না।

মন্তব্য করুন


Link copied