নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আদেশ বাড়ছে। গত দুই মাসে আমেরিকার বাজার থেকে আসা অর্ডার ৩২ শতাংশ বেড়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে চলতি অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ২০৫ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী এসব দেশের ওপর শুল্ক বাড়ায় ক্রেতারা বাংলাদেশি পণ্যের খোঁজখবর নিচ্ছেন। চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ করায় এ সুযোগ তৈরি হয়েছে। শুল্ক এড়াতে চীনের কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো এখন কিছু অপ্রচলিত রপ্তানি আদেশ পাচ্ছে, যা আগে যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানি করত। এর মধ্যে রয়েছে হার্ডওয়্যার সামগ্রী, নির্মাণসামগ্রী, পিভিসি পাইপ এবং পিপি ওভেন ব্যাগ। এর পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের অর্ডারও বাড়ছে। এরই মধ্যে চীনা কোম্পানি হান্ডা (বাংলাদেশ) গার্মেন্ট চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনের জন্য প্রায় ৪ কোটি ডলারের বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে।
ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের মতে, ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের কারণে শুধু সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমবে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। প্রাথমিক হিসাবে দেশটির বার্ষিক রপ্তানি কমতে পারে ৪ হাজার কোটি ডলার, যার সুবিধা পাবে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও চীন। বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ইউনাইটেড ফোরামের প্যানেল লিডার মোহাম্মদ মফিজ উল্লাহ বাবলু বলেন, মার্কিন শুল্ক নীতির ফলে বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে অর্ডার বাড়ছে। শুল্কের পার্থক্যের কারণে অনেক মার্কিন ক্রেতা তাদের অর্ডার চীন থেকে সরিয়ে অন্য দেশে স্থানান্তর করছে। বর্তমানে অনেক চীনা বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতা তাদের অর্ডার বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে শুরু করছে। এমনকি কিছু চীনা উৎপাদনকারী শুল্ক এড়ানোর জন্য বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করছেন। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২৫% বেড়ে ৪.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যেখানে চীনের রপ্তানি ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার কমেছে।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারত এবং চীনের ওপরে ট্রাম্প প্রশাসন যে হারে শুল্ক আরোপ করেছে তাতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ২০৫ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি শুল্কারোপ করায় ১২০ থেকে ২০৭ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর চীনের ওপরে বেশি শুল্কারোপ করার কারণে সাত থেকে পঁচিশ মিলিয়ন ডলার বেশি রপ্তানি হতে পারে মার্কিন বাজারে।