আর্কাইভ  রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ● ১০ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
 
 
শিরোনাম: মরিয়ম মান্নানের মা জীবিত উদ্ধার; ছিলেন স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে       ডেপুটি স্পিকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আ.লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ       এনআইডিতে লাগবে ১০ আঙুলের ছাপ       গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিক, সম্পাদক মোজাম্মেল       ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ২      

গ্রেনেড হামলার নীলনকশা হাওয়া ভবনে

রবিবার, ২১ আগস্ট ২০২২, দুপুর ১০:০৩

ডেস্ক: ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার নীলনকশা হয় হাওয়া ভবনে। বিদেশে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ হাসিনাকে মারতেই এ পরিকল্পনা করা হয়— এমনটাই বলছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা।

কিছু বুঝে উঠার আগেই কয়েকটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ। মুহূর্তেই রণক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। তবে পরিকল্পনাটি দীর্ঘদিনের।

২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট হাওয়া ভবনে অনুষ্ঠিত হয় বৈঠক। অংশ নেন তারেক রহমান, বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর নূর, জামায়াতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান মুজাহিদ, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নান ও মাওলানা তাজউদ্দিন।

ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। নিশ্চয়তা দেন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

১৬ আগস্ট, ২০০৪ সাল। রাজধানীর মিন্টু রোডে বাবরের বাসায় আবারও বসে বৈঠক। তৈরি করা হয় পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা; সিদ্ধান্ত হয় আক্রমণের। ১৮ আগস্ট আরেক দফা বৈঠক হয় আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায়। সেখানে উপস্থিত হন তার ভাই জঙ্গি নেতা তাজউদ্দিন ও খালেদা জিয়ার ভাগনে সাইফুল ইসলাম ডিউক। হরকাতুল জিহাদের কাছে বাবর হস্তান্তর করেন ১২টি আর্জেস গ্রেনেড।

২১ আগস্ট, ২০০৪। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় পরিকল্পনা অনুযায়ী হরকাতুল জিহাদের গ্রেনেড হামলা। নিহত হন দলের ২৪ নেতাকর্মী। পুলিশের সহায়তায় পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেয় পুলিশ। এমনকি পানি ছিটিয়ে নষ্ট করে দেয়া হয় ঘটনাস্থলের আলামত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দ বলেন, ঢাকা শহরে একসঙ্গে এত বড় জমায়েত অবস্থায় কোনো গ্রেনেড এ রকমভাবে পড়ার ঘটনা আমার জানা নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর এটাই ছিল আওয়ামী লীগের ওপর সবচেয়ে পরিকল্পিত ও বড় আঘাত।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ধ্রুব সত্য এটা রাষ্ট্রীয় মেকানিজম করেই, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেই ভয়াবহ এ ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া তো একজনকে বিদেশ পাঠিয়ে দিলেন; তিনি মাওলানা তাজউদ্দিন। এ ঘটনাগুলো সাক্ষীতে এসেছে।

ইতিহাস থেকে এ জঘন্যতম অধ্যায় মুছে ফেলতেও চেষ্টার কমতি ছিল না তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রের। ইতিহাসের জঘন্যতম ভয়াবহ বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা রাষ্ট্রীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মামলা। নজিরবিহীন ওই হামলার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে স্থবির ও ধ্বংসের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। সে কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা মামলাটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বরাবর দরখাস্ত করেছি। প্রধান বিচারপতি মামলাটি শুনানির জন্য একটি বেঞ্চ ঠিক করে দেবেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিত করার জন্য বিচারিক আদালত থেকে যে রেফারেন্সগুলো হাইকোর্টে আসে তা শুনানির জন্য প্রস্তুত হলে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ ঠিক করে দেন। সে অনুযায়ী শুনানি হয়। খবর-সময় টিভি

মন্তব্য করুন


Link copied