আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ৩০ জুন ২০২২ ● ১৬ আষাঢ় ১৪২৯
আর্কাইভ   বৃহস্পতিবার ● ৩০ জুন ২০২২
PMBA
PMBA

বিনা অনুমতিতে পোস্টারে প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর ছবি, নেত্রীকে শোকজ

মঙ্গলবার, ৩১ মে ২০২২, দুপুর ০২:২৬

নাটোর: বিনা অনুমতিতে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিন কনিকার ছবি ব্যবহার করে প্রচারণামূলক পোস্টার-ব্যানার তৈরি ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে।  

এ ঘটনায় নাটোরের সিংড়া পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়তুন বেগমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে ওই নোটিশে তিনদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

সোমবার (৩০ মে) দুপুরে সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস তাঁর কাছে ওই কারণ দর্শানো নোটিশটি পাঠান। জয়তুন বেগমও নোটিশটি গ্রহণ করেছেন এবং তিনি এর সঠিক জবাব দেবেন বলে জানা গেছে।  

রাতে সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তিন দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এই পোস্টার প্রকাশ পাওয়ায় সিংড়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পুরো জেলাজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া নাজুল হক নামে আইডি থেকে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে যে পোস্ট দেওয়া হয়েছে, তাকেও শনাক্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, সিংড়া পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়তুন বেগম রোববার তাঁর ফেসবুকে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিনের ছবি ব্যবহার করে প্রচারণামূলক ব্যানার পোস্ট করেন। ওই ব্যানারে লেখা ছিল-আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী হিসেবে আরিফা জেসমিন কনিকা ভাবিকে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চাই। ব্যানারের নিচে প্রচারে: নাটোর-৩ সিংড়া আসনের জনগণ লেখা রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নানাজন নানা মন্তব্য পোস্ট করায় বিষয়টি নিয়ে ঘোলাটে পরিবেশ বিরাজ করতে থাকে। এমনকি জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।  

পরে বিষয়টি সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে জয়তুন বেগমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সোমবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস দলীয় প্যাডে তাঁর স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়তুন বেগমকে পাঠান।  

ওই নোটিশে বলা হয়, এ প্রচারণা ব্যানার প্রকাশ পাওয়ায় সিংড়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, যা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিংড়া পৌর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জয়তুন বেগম জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে কারণ দর্শানো নোটিশ হাতে পেয়েছেন। তিনি এই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দেবেন। অনেক কিছু বলার আছে। তবে এখন কিছুই বলবেন না বলে জানান তিনি।

এদিকে নাজমুল হক নামে অপর এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের ছবিসহ অপর একটি প্রচারণামূলক পোস্টার-ব্যানার পোস্ট করেছেন। এতে লেখা হয়েছে, ‘জুনাইদ আহমেদ পলক ভাইকে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গার এমপি হিসেবে দেখতে চাই। এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। আবার ফেসবুক জুড়ে উঠেছে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড়।  

এদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সফিউল আজম স্বপন তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, সিংড়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য জননেতা অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক  জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জনের মাধ্যমে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।  

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার কর্মকাণ্ডে আমরা সত্যিকার অর্থেই গর্ববোধ করি। চলন বিলের কাদামাটি থেকে বেড়ে ওঠা একজন রাজনীতিক যিনি শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের বুকে দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  

সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী এবং তার স্ত্রীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। নাটোরের আওয়ামী পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।  

আমি মনে করি এটি নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের একটি অংশ। তাই অনতিবিলম্বে এরূপ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে সব ষড়যন্ত্র অঙ্কুরেই ধ্বংস করতে হবে। একই মন্তব্য করেছেন আরও অনেকে।  

মন্তব্য করুন


Link copied