আর্কাইভ  সোমবার ● ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ● ২ বৈশাখ ১৪৩১
আর্কাইভ   সোমবার ● ১৫ এপ্রিল ২০২৪
 width=
 
 width=
 
শিরোনাম: এমভি আব্দুল্লাহ উদ্ধার: মুক্তিপণ নিয়ে তীরে উঠেই ৮ জলদস্যু গ্রেপ্তার       রংপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদ্‌যাপন       ঠাকুরগাঁওয়ে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু        ৭৫ এর মত আবারও দেশে বাকশাল কায়েম করেছে এ সরকার- মির্জা ফখরুল       টিকটক বানাতে গিয়ে তিস্তা নদীতে ডুবে প্রাণ গেল কিশোরের      

 width=
 

শেখ হাসিনা কথা দিয়ে রেখেছেন, করেছেন স্বপ্ন পূরণ

বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩, সকাল ০৮:৪৪

স্টাফরিপোর্টার,নীলফামারী॥ কোন অজানা কারণে কখনোই আমাদের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় নাই অতীতের কোন সরকার। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারই কথা দিয়ে কথা রেখেছেন। আমাদের মতো ভুমিহীন ও গৃহহীন মানুষের কথা চিন্তা করে জমি সহ ঘর দিলেন।  তিনি আমাদের মতো অসহায় মানুষজনের সুখ-শান্তি ও জীবনমান উন্নয়নের কথা ভেবেছেন। একমাত্র শেখ হাসিনার কারণেই আমরা আজ মঙ্গা মুক্ত- অভাব মুক্ত। যে টুকু অভাব ছিল নিজের জমি ও ঘরের। সেটাও পুরণ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। 
ঠিক এ ভাবেই কথা গুলো বলছিলেন নীলফামারী সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের  দুবাছুড়ি এলাকার ৭৫ বছরের বৃদ্ধ  আলী আহমেদ। বুধবার (২২ মার্চ) তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন প্রকল্পের রঙিন টিনের পাকা বাড়ি পেয়েছেন। তার সাথে ওই এলাকার আরও ৩৬ জন পেয়েছে এই ঘর। 
 বৃদ্ধ আলী আহমেদ বলছিলেন আমার মনে পড়ে ২০০৩ সালে বিএনপি জামায়াত সরকার ক্ষমতায়। হঠাৎ করে আমাদের এলাকায় প্রচন্ড অভাব। ঘরে ঘরে খাবার নাই। আওয়ামী লীগ সে সময় বিরোধী দলের হলেও নীলফামারীর এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান নুর। তিনি টানা চার বারের এমপি এখন। তখন নুর এমপি  তার নিজের পকেটের টাকা দিয়ে খাদ্য কিনে আমাদের সরবরাহ করতেন। পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হতে লাগলো। সে সময় আমাদের লক্ষ্মীচাপের দুবাছড়ি সহ গ্রামে ছুটে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। বৃদ্ধ জানালেন শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন মতিয়া চৌধুরী , আসাদুজ্জামান নুর এমপি সহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী। তারা আমাদের খাদ্য সামগ্রী সহ নগদ টাকাও দেন। সে সময় শেখের বেটি বলেছিল যদি ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে এই লক্ষ্মীচাপে মঙ্গা বা অভাব আর থাকবেনা। যাদের জমি বা নিজস্ব ঘর নাই তাদের ঘর করে দেয়া হবে। সেই কথা আজ খুব মনে পড়ছে আর কানে আওয়াজ তুলছে আমার। কথা গুলো বলে কেঁদে ফেললেন বৃদ্ধ আলী আহমেদ। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বৃদ্ধ সে সময়  বললেন শেখ হাসিনা কথা দিয়ে রেখেছেন, করলেন আমার ও এলাকার আমার মতো অসহায় মানুষদের স্বপ্ন পূরণ। 
সরাসরি টেলিভিশনের পর্দায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তরের ঘোষনা দেয়ার পরপরেই আলী আহমেদ সহ ওই এলঅকার ৩৬ পরিবারের  হাতে  জমি ও ঘরের দলিল এবং চাবি  বুঝিয়ে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আসাদুজ্জামান নুর এমপি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার, সহকারি কমিশনার (ভুমি) ইবনুল আবেদীন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ।
মৃত ইমাম আলীর সন্তান আলী আহমেদ। পিতা ছিলেন দিনমজুর। স্ত্রী মাজেদা বেগম জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তিন ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়ে নুর নাহারের কাছেই তিনি থাকেন। জামাই তহিদুল ইসলাম ভ্যান চালক। বাকী ছেলে মেয়েরা নিজেদের সংসার নিয়ে পৃথক ভাবে দিনমজুরি করে সংসার চালায়। ছোট মেয়েটির তিনি প্রথমে বিয়ে দেয়ার পর সেই ঘরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু সন্তানটি জন্ম থেকে বোবা (বাক প্রতিবন্ধী)। সেই স্বামী নবজাতক বোবা সন্তান কে ফেলে ও নুর নাহারকে তালাক দিয়ে চলে যায়। অন্যের জমিতে একচালা ঘরে বাবা মেয়ে আর আর বোবা নাতী নিয়ে এই বৃদ্ধের কষ্ঠের দিনগুলো ছিল দীর্ঘশ্বাসের মতো। হঠাৎ করে আরেক এতিম ভ্যান চালক তহিদুল এসে বোবা সন্তান রাজিব সহ তার মা নুরনাহারের হাল ধরেন। এক বছর হয় তাদের বিয়ে হয়েছে। নুর নাহারের বোবা সন্তানের বয়স এখন ৬ বছর। মেয়ের দ্বিতীয় জামাই পেয়ে বৃদ্ধ আলী আহমেদ কিছুটা বৃদ্ধ আলী আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা কথা দিয়ে কথা রেখে আজ জমি সহ এমন রঙিন টিনের পাকা ঘর বিনামূল্যে তুলে দিলেন। অন্যের জমিনে ঘর করে থাকতাম। আল্লাহর রহমতে শেখের বেটি শেখ হাসিনার উসিলায় আজকে আমি নিজের ঠাই পেলাম। ভিটে ছিল না বলে অনেকেই আমাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো, ছোট চোখে দেখতো। এখন বলতে পারব আমার একটু জায়গা আছে, আমিও আধাপাকা ঘরের মালিক। 
আসাদুজ্জামান নুর জানান, এই লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের মানুষদের কথা মাথায় রেখে এই ইউনিয়নে এ পর্যন্ত যাচাই বাছাই করে ১০৭ জনকে আশ্রয়ের ঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিলেন। এ ছাড়া এই এলাকার মানুষজনকে সরকারের সকল প্রকার সহযোগীতা প্রদান করা হচ্ছে। এখন এই ইউনিয়নে আর একজনও ভুমিহীন ও গৃহহীন থাকলোনা। 
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার জানালেন এ পর্যন্ত জেলা সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ৭৪৯ জনকে আশ্রয়নের জমি ও ঘর প্রদান করে জেলা সদরকে ভুমিহীন ও গৃহহীন ঘোষনা করা হয়েছে। 

মন্তব্য করুন


 

Link copied