নিজস্ব প্রতিবেদক : গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে উত্তেজনার মুখে জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, রংপুরে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল ভেবে কেউ ভুল করলে তাঁর জোরালো জবাব দেবেন। তিনি বলেন, ‘সবগুলার হাত-পা ভেঙে দিয়ে দেব একেবারে। শক্তি থাকলে আসুক, কেউ যদি সহযোগী থাকে, তাদের নিয়ে আসুক। ওদের যদি শক্তি-সামর্থ্য থাকে তো আসি দেখুক। কী অবস্থা হয়।’
আজ শনিবার দুপুরে রংপুরের সেন্ট্রাল রোডে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দলের মহানগর ও জেলা নেতা-কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচিতে মোস্তাফিজার এমন হুঁশিয়ারি বার্তা দেন।
রাজধানীর কাকরাইলে গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের আহত হওয়ার বিষয়ে মোস্তাফিজার বলেন, ‘ভিপি নুর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করে মা বলে ডেকেছিল। এখন তারা হলো ফ্যাসিস্টবিরোধী। যখন ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যানকে সিএমএইচে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো, একটা লোক বা দল এর বিপক্ষে কথা বলেনি।’
জাতীয় পার্টি একক শক্তি উল্লেখ করে মোস্তাফিজার বলেন, ‘কারও পার্টি অফিস ভাঙচুর করা, কাউকে লাঞ্ছিত করা—এই ধরনের জাতীয় পার্টির ইতিহাসে নেই। এখন তারা পায়ে পড়ে কীভাবে ঝগড়া লাগানো যায়, সেই প্রচেষ্টায় তারা লিপ্ত। তবে আমাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, রংপুরে কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না।’
দেশে আইনের শাসনের কোনো পরিস্থিতি নেই বলে দাবি করে জাপা নেতা বলেন, ‘মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিয়ত হেনস্তা করা হচ্ছে। একটা ১৬-১৭ বছরের ছেলে প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধার শার্টের কলার চিপে ধরছে। তাঁকে ধাক্কা নিয়ে মাটিতে ফেলিয়ে দিচ্ছে। এই যদি দেশের অবস্থা হয়, তাহলে এই লাল-সবুজের পতাকা, এই স্বাধীন বাংলাদেশ—বিপদের সম্মুখীন হয়ে গেছে।’
মোস্তাফিজার বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, এই মব ঠেকানোর জন্য। মব সংস্কৃতি যতক্ষণ পর্যন্ত থাকবে, ততক্ষণ দেশ একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে থাকবে। আমরা যে নির্বাচনের কথা চিন্তা করছি, সেই নির্বাচনও হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
অবস্থান কর্মসূচিতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক আকমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।