আর্কাইভ  রবিবার ● ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   রবিবার ● ৫ ডিসেম্বর ২০২১

ডোমার পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইভিএম এ ভোটগ্রহণ চলছে (ভিডিও)

মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ১২:১১

স্টাফ রিপোর্টার,নীলফামারী॥ সপ্তম ধাপে নীলফামারীর ডোমার পৌরসভা নির্বাচনে এবারই প্রথম ইলেক্ট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)  পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চলছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রের ৫১টি বুথে আজ মঙ্গলবার (২ নবেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। হেমন্তের শীতের হালকা মেজাজে শরীরে একটু গরম কাপড় জড়িয়ে ভোটাররা সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে এসে উৎসব মুখোর পরিবেশে ভোট প্রদান করতে দেখা যায়। তবে নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। 
সকাল ৮টার দিকে কেন্দ্রগুলিতে ভিড় কম থাকলেও বেলা বাড়ারসাথে সাথে কেন্দ্রগুলিতে ভোটারদের ভিড় বাড়তে পারে। যা দীর্ঘ লাইনে পরিনত হয়। ডোমার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিকমমাটি ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী ও পুরুষ ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় চোখে পরার মতো ছিল। 
এই কেন্দ্রে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র রায়হান হাফিজ (২১) তার প্রথম ভোট প্রদান করে বলেন জীবনের প্রথম ভোট ইভিএম এ দিতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবাস মনে করছি।
মৃত একরামূল হকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৬৫) শারিরিকভাবে বেশ অসুস্থ্য। তার পরেও ভোট দিতে এসেছেন। তিনি বললেন জীবনে কোন ভোট বাদ দেই। প্রতিটা ভোটইে ভোট দিয়েছি। এবারও ভোট দিতে পেরে শেষ বয়সে ভাল লাগছে। 
    সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে নয়টি ভোট কেন্দ্রে মোট ১৩ হাজার ৫৪০ ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে নারী ভোটার ৬ হাজার ৮৭৩ ও পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৬৬৭। অপরদিকে ৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে। ঝুঁকি এড়াতে এসব কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 
পুলিশের বিশেষ শাখা সুত্র মতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৮ হাজার ৩৬২ জন। কেন্দ্রগুলো হলো চার নম্বর ওয়ার্ডের ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়(ভোটার সংখ্যা ২৫১১), ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডোমার মহিলা কলেজ কেন্দ্র (ভোটর সংখ্যা ১৩২৮), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের  চিকনমাটি পরিবার পরিকল্পনার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র  (ভোটার সংখ্যা ১৪৯৮), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর চিকনমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা ১৬২৩) ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চিকনমাটি ডাঙ্গাপাড়া শাহী ইবতেদায়ী মাদ্রাসা (ভোটার সংখ্যা ১৪০২)। এ ছাড়া  সাধারণ ভোট কেন্দ্রের তালিকায় রয়েছে এক নম্বর ওয়ার্ডের ডোমার সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা ২১৯৬) দুই নম্বর ওয়ার্ডের চিকনমাটি দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা ৬৩১), তিন নম্বর ওয়ার্ডের ডোমার শহীদস্মৃতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র(ভোটার সংখ্যা ১২৯৮) এবং পাঁচ নম্বর ওয়াডের্র উপজেলা পরিষদ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র  (ভোটার সংখ্যা ১০৫৩)।
সপ্তম ধাপে এই  নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি অংশ না নিলেও  ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাউন্সিলার প্রার্থী রয়েছে দলটির। মেয়র পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তারা হলেন নৌকা প্রতীকে  ডোমার উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক গণেশ কুমার আগরওয়ালা, স্বতন্ত্র প্রার্থী দুই জন হলো বর্তমান মেয়র  মনছুরুল ইসলাম দানু( নারিকেল গাছ) ও আফরোজা নাজনীন রুমি (মোবাইল ফোন)।
 ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি পদে ৩২ জন কাউন্সিলর  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ জন।
সকাল ১১ টা পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহন চলছিল। প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের দেখা যায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে তারা পর্যবেক্ষন করছেন। 
নির্বাচনী কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইটিং অফিসার ডোমার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন সকাল ১১ টা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ ভাগ ভোট কাষ্ট হয়েছে।  
মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী গনেশ কুমার আগরওয়ালা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করেন। এ ছাড়া অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে নারিকেল গাছ প্রতিকের প্রার্থী ৪ নম্বর কেন্দ্রে ও মোবাইল ফোন প্রতিকের প্রার্থী ৩ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রে তাদের ভোট প্রদান করেন।
ডোমার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন,‘ভোটারদের মধ্যে ইভিএম ব্যবহার শেখাতে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা গত রবিবার ইভিএম নিয়ে গিয়ে মগ ভোটিং এর মাধ্যমে ভোটারদেরকে ইভিএম ব্যবহার শেখানো হয়। ফলে ইভিএম এ ভোট প্রদানে ভোটারদের কোন সমস্যা হবার কথা নয় । 
রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নির্বাচনে সহিংসতা যাতে না হয় সেজন্য নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ,বিজিবি ও র‌্যাব রয়েছে। 
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান জানান, পুলিশের চারটি ভ্রাম্যমাণ দল, দুটি স্ট্রাইকিং দল, বিজিবি ও র‌্যাবের ৩টি দল সহ কয়েক শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আনসার সদস্যরা নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত রয়েছে। গোটা নির্বাচনি এলাকায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। প্রতিটি ভোট কেন্দ্র ও সড়কে রয়েছে পুলিশের একাধিক দল। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি।
জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন পরিচালনায় আমরা সকল প্রকার ব্যবস্থা রেখেছি। ৯টি কেন্দ্রে ১ জন করে মোট ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

মন্তব্য করুন


Link copied