আর্কাইভ  শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১

নীলফামারীতে চলছে ১১ ইউপির ভোট; কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা ভাইরাল

বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ১১:৫৭

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী: কেন্দ্র দখল করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে বিভিন্ন পরিকল্পনার মোবাইলে একটি কথপোকথন ভাইরাল হয়েছে। বেশ কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী বুকে নৌকার প্রতীক লাগিয়ে এবং মুজিব কোট পরিধান করে কেন্দ্র দখলে নিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য পরিকল্পনাও কথাও ফাঁস হয়ে পরে। এমন পরিকল্পনাকে প্রতিরোধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কঠোর নিরাপক্তা ও ভ্রাম্যমান টহল জোড়দার করেছে। 

আজ বৃহস্পতিবার(১১ নভেম্বর/২০২১) দ্বিতীয় ধাপে নীলফামারী জেলা সদরের ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহন চলছে। হেমন্তের উষ্ণতা শীতের পরশ নিয়ে নীলফামারী জেলা সদরের ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত। কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ভালো ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনও বাড়তে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে একটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতিকের এক চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবাইলে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীকে মোবাইল করে আঁতাতের কথা বলেন। তিনি সু-নির্দিষ্টভাবে দুইটি ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র দখলের কথা উল্লেখ করে বলতে শোনা যায় তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রটি দখল করতে চান। যদি নৌকা ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র দখল না করে তাহলে তিনি ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র একাই দখল করবেন। যা আজ সকালে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পরে। বিষয়টি আইনশৃংঙ্খলাবাহিনী গুরুত্বের সাথে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রকে সুরক্ষার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু পরিকল্পনা এখন জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় সৃস্টি করে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, ১১টি ইউপির ১০টিতে রয়েছে নয়টি করে কেন্দ্র ও চড়াইখোলা ইউনিয়নে রয়েছে ১০টি কেন্দ্র। এ নিয়ে মোট ১০০টি কেন্দ্রর মধ্যে ৩৪টি কেন্দ্রকে ধরা হয়েছে অতিগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে। ওই ৩৪টির মধ্যে চওড়াবড়গাছা ইউনিয়নে তিনটি, গোড়গ্রামে চারটি, পলাশবাড়ীতে দুইটি, রামনগরে চারটি, কচুকাটায় তিনটি, পঞ্চপুকুরে দুইটি, সোনারায়ে তিনটি, সংগলশীতে তিনটি, চড়াইখোলায় তিনটি, চাপড়াসরমজামীতে দুইটি ও ল²ীচাপ ইউনিয়নে পাঁচটি কেন্দ্র। ১১টি ইউনিয়নে ১০০ ভোট কেন্দ্রের ৫৮৬টি বুথে ভোট প্রদান করবেন দুই লাখ ১২হাজার পাঁচজন ভোটার। ১০০টি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন ১০০ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৫৮৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং এক হাজার ১৭২জন পোলিং কর্মকর্তা। দুই লাখ ১২হাজার পাঁচজন ভোটারের মধ্যে পুরুষভোটার এক লাখ ছয় হাজার ৮৯৮জন এবং নারী ভোটার এক লাখ পাঁচ হাজার ১০৭জন। 

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে চার থেকে ৬ জন করে পুলিশের অস্ত্রধারী সদস্য আর সাধারণ ভোট কেন্দ্রে তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে অস্ত্রধারী একজন পিসি ও একজন এপিসিও আছে। এছাড়া আট থেকে ১০ জন করে আনসার সদস্য ও গ্রামপুলিশ রয়েছে। এ ছাড়াও ইউনিয়ন ভিত্তি¡ক রয়েছে একজন এক্সিকিউটিক ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যগনের সম্বয়নে একটি করে ভ্রাম্যমান টিম। তারা সার্বক্ষনিক প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের বাহিরে টহলে রয়েছেন।

ওই ১১ ইউপিতে প্রতিদ্বন্দীতায় রয়েছেন চেয়ারম্যান পদে ৬৪জন, সদস্য পদে ৩৮৩ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৪৭জন। চেয়ারম্যান পদের মধ্যে ১১ ইউপিতে দলীয় ভাবে আওয়ামী লীগের (নৌকা) ১১ জন, ওয়াকার্স পাটির (হাতুড়ি) একজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) পাঁচ জন রয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ইউপিতে রয়েছে আওয়ামী লীগের ২১জন বিদ্রোহী প্রার্থী। অপরদিকে দলীয় প্রতিক ধানের শীষ ছাড়া আটজন বিএনপির নেতা ও ১জন জামায়াত নেতা লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। অপর ১৭ প্রার্থী লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, ১১টি ইউপির ১০টিতে রয়েছে নয়টি করে কেন্দ্র ও চড়াইখোলা ইউনিয়নে রয়েছে ১০টি কেন্দ্র। এ নিয়ে মোট ১০০টি কেন্দ্রর মধ্যে ৩৪টি কেন্দ্রকে ধরা হয়েছে অতিগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে। ওই ৩৪টির মধ্যে চওড়াবড়গাছা ইউনিয়নে তিনটি, গোড়গ্রামে চারটি, পলাশবাড়ীতে দুইটি, রামনগরে চারটি, কচুকাটায় তিনটি, পঞ্চপুকুরে দুইটি, সোনারায়ে তিনটি, সংগলশীতে তিনটি, চড়াইখোলায় তিনটি, চাপড়াসরমজামীতে দুইটি ও ল²ীচাপ ইউনিয়নে পাঁচটি কেন্দ্র। ১১টি ইউনিয়নে ১০০ ভোট কেন্দ্রের ৫৮৬টি বুথে ভোট প্রদান করবেন দুই লাখ ১২হাজার পাঁচজন ভোটার। ১০০টি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন ১০০ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৫৮৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং এক হাজার ১৭২জন পোলিং কর্মকর্তা। দুই লাখ ১২হাজার পাঁচজন ভোটারের মধ্যে পুরুষভোটার এক লাখ ছয় হাজার ৮৯৮জন এবং নারী ভোটার এক লাখ পাঁচ হাজার ১০৭জন। 

এদিকে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান , অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মীর্জা মুরাদ বেগ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষন করতে দেখা যায়। 

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান (বিপিএম, পিপিএম) জানান, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেণ ভাইরাল হওয়া পরিকল্পনা গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।

জেলা প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসন সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমরা কোন ভাবেই নির্বাচনকে বির্তক করতে দিবোনা। যে পরিকল্পনা ভাইরাল হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

 

মন্তব্য করুন


Link copied