আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ● ২৭ মাঘ ১৪২৯
আর্কাইভ   বৃহস্পতিবার ● ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
 width=
 width=
শিরোনাম: দিনাজপুরে ৯২ হাজার পিচ ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছেন র‍্যাব       আর কেউ নির্বাচন নিয়ে কোনো কথার সুযোগ পাবে না: প্রধানমন্ত্রী       ঠাকুরগাঁওয়ে এইচএসসিতে ফেল করায় গলায় ফাঁস দিয়ে কলেজ ছাত্রীর আত্নহত্যা       রংপুরে অনলাইনে ভেটেনারি মেডিসিন বিক্রয়ের নামে প্রতারনাকারী গ্রেফতার       দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে ১৩ টি কলেজে পাশ করেনি কেউ      
 width=

নীলফামারীর রামগঞ্জ ট্রাজেডি ৯ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও শোকসভা

বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, বিকাল ০৭:২৪

স্টাফরিপোর্টার,নীলফামারী॥ নীলফামারী-২(সদর) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলায় নিহত চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও এক পথচারী স্মরণে দোয়া মাফিল ও শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার(১৪ ডিসেম্বর) বিকালে রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করে টুপামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। 
নয় বছর আগে ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকালে জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা চালায় জামায়াত-বিএনপি। ওই হামলায় আসাদুজ্জামান নূর প্রাণে রক্ষা পেলেও নিহত হন টুপামারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী, টুপামারী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন শাহ্ ও তার ছোট ভাই মুরাদ হোসেন শাহ্, আওয়ামী লীগ কর্মী লিটন হোসেন লেবু মিয়া। এ সময় পথচারী বাঁশ বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক নিহত হন। ঘটনার পরে এলাকায় ‘রামগঞ্জ ট্রাজেডি’ নামে পরিচিত হয় এ দিনটি। 
বিকালে দোয়া মাহফিল এবং শোক সভার আগে নিহতদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় নিহতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা একরামূল হক শাহ। এসময় বক্তৃতা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মমতাজুল হক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মাহমুদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুজার রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান, টুপামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম শাহ, রেজাউল করিম বাবু, মানিক হোসেন প্রমুখ। 
ঘটনার নয় বছরেও বিচার কার্যের তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নারকীয় ওই হত্যার বিচারের আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু নয় বছরেও এর সুফল আসেনি। মামলাটি চার্জ গঠনের অপেক্ষায় পড়ে আছে ছয় বছর ধরে। দ্রুত এর বিচারকার্য সম্পন্নের দাবি জানান তারা।
প্রকাশ্য যে, ওই সালের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার রাতে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ও পলাশবাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালায় জামায়াত-বিএনপি। ঘটনার দুইদিন পর ১৪ ডিসেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। পরিদর্শন শেষে বিকেলে জেলা শহরে ফেরার সময় টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে ধারালো অস্ত্রধারী জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর পথ রোধ করে হামলা চালায়। সে হামলায় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মী নিহত এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এসময় সেই রাস্তা দিয়ে যাওয়া পথচারী বাঁশ বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক নিহত হন। 
মামলার সূত্রমতে, ২০৬ আসামীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। অন্য আসামীদের মধ্যে ১৭৩ জন জামিনে থাকলেও আদালতে গড় হাজির রয়েছেন ৩০ জন। চার্জ গঠনের অপেক্ষায় আদালতে মামলাটি পড়ে আছে ছয় বছর ধরে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অক্ষয় কুমার রায় বলেন, মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জ গঠনের অপেক্ষায়  ছয় বছর ধরে আছে। ২০১৭ সালের ৩০ মে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে বদলি হয়ে এ আদালতে আসে। আদালতের বিচারক দীর্ঘদিন অসুস্থ্য থাকায় বিচার কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে সমস্যা কেটে গেছে, আগামী বছরের চার জানুয়ারী ধার্য তারিখ রয়েছে। 

মন্তব্য করুন


Link copied