আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৫ জুলাই ২০২২ ● ২১ আষাঢ় ১৪২৯
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৫ জুলাই ২০২২
PMBA
PMBA

রংপুরের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২, বিকাল ০৫:৫৮

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: হতদরিদ্র আব্দুল লতিফের পরিবারের ৫ বছর বয়সি মেয়ে লিমু আক্তারের পেটের টিউমার সারাতে অপারেশনের জন্য ভর্তি করান রংপুরের তালুকদার হাসপাতালে। সেখানে অপারেশনের পর এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শিশুটি। পেটের টিউমার ধারণ করেছে আরো বড় আকারে। সিটি স্ক্যানে দেখা মিলছে না বাম পাশের কিডনি।

এ ঘটনায় গত রোববার (২৪ এপ্রিল) হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল কাদের তালুকদারের বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ের আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন আব্দুল লতিফ। মামলায় জড়ানো হয়েছে আজিজুল হক নামের এক ব্যক্তিকেও।

মামলার আসামী চিকিৎসক আব্দুল কাদের তালুকদার রংপুরের তালুকদার কমপ্লেক্স ধাপ এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে। অপর আসামী আব্দুল লতিফ পঞ্চগড়ের টুনিরহাট দফাদার পাড়া এলাকার মৃত নসিম উদ্দীনের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি মেহেদী হাসান মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি আদলত আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)- কে তদন্তভার দিয়েছেন। আশাকরি ভুক্তভোগি পরিবার ন্যায় বিচার পাবেন।

অভিযোগে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার হতদরিদ্র আব্দুল লতিফ তার ৫ বছর বয়সি মেয়ে লিমু আক্তারের পেটের টিউমার সারাতে অপারেশনের জন্য ভর্তি করান রংপুরের তালুকদার হাসপাতালে। অপারেশনে যথেষ্ট অবহেলা করেছে চিকিৎসক। অপারেশনের আগে টিউমারের বর্তমান অবস্থান জানতে কোন টেস্টের প্রয়োজনবোধও করেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি অপারেশনের পর নিয়ম অনুযায়ী বায়োপসি টেস্টও করা হয়নি। এছাড়া, পুরো অপারেশনের জন্য ৩২ হাজার টাকা চুক্তি থাকলেও গুণতে হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। অথচ টাকা পরিশোধের কোন রশিদ পাননি রোগীর পরিবার।

পারিবারিক ভাবে জানা গেছে, শিশু লিমু আক্তারের পেটে টিউমার শনাক্তের বিষয়টি পরিবার জানতে পারে ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর। অর্থাভাবে তখন অপারেশন করাতে পারেননি। এতদিন চিকিৎসকের পরামর্শ মতে মেয়ের চিকিৎসা চালালেও গত ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের দফাদারপাড়া এলাকার আজিজুল হকের মাধ্যমে ভর্তি করান রংপুরের তালুকদার হাসপাতালে।

এদিকে মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশুটির অপারেশন করা হয় ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর। কিন্তু অপারেশনের সময় নতুন করে কোন টেস্টের রিপোর্ট খোঁজেনি চিকিৎসক আব্দুল কাদের তালুকদার। তিনি ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর শনাক্ত হওয়া ওই রিপোর্ট অনুযায়ী অপারেশন করেন। এদিকে, অপারেশনের পর শিশুটিকে বাড়ি আনা হলে অবস্থার আরো অবনতি হয়।

শিশুটি লিমুর বাবা আব্দুল লতিফ জানান, আমার মেয়ের অবস্থার অবনতি দেখে তালুকদার হাসপাতালে যোগাযোগ করলে তারা কোন গুরুত্ব দেয়নি। পরে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক বায়োপসি টেস্টের রিপোর্ট ছাড়া চিকিৎসা দিতে অনীহা দেখান। একই অযুহাত দেখিয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ এবং মহাখালী এনআইসিআর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। মেয়ের অপারেশনের জন্য মানুষের কাছে হাত পেতে সাহায্য তুলে টাকা জমিয়েছিলাম। তারপরও পথঘাট না জানার কারণে সহযোগীতা চাই আজিজুল হকের। তিনি আমাকে তালুকদার হাসপাতাল ভালো হবে বলে আশ্বস্ত করেন। আমি তাকে বিশ্বাস করে ওই হাসপাতালে মেয়েকে ভর্তি করি। এই বিশ্বাসই যেন আমার বড় ভুল। চিকিৎসক কি অপারেশন করলো আমার বুঝে আসছেনা। যেই টিউমার সারাতে অপারেশন করা, সেই টিউমার এখন আরো বড় হচ্ছে। আবার সিটি স্ক্যানে একটি কিডনি দেখা যাচ্ছেনা। কিডনি সরিয়ে ফেলছে এমন আশঙ্কাও করছি। মেয়ের চিকিৎসার জন্য আমার সব শেষ করে ফেলেছি, তারপরও মেয়েকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারলামনা। ছোট্ট মেয়েটি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। চোখের সামনে মেয়ের এমন কষ্ট সহ্য হয়না। তাই আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি। আমি চাই আমার মত কোন পরিবার চিকিৎসা নিতে গিয়ে এমন অবহেলায় না পড়ুক।

হাসপাতালে ভর্তি হতে সহায়তাকারী অভিযুক্ত আজিজুল হক বলেন, তাদের উপকারের উদ্দেশ্যে আমি সঙ্গে গিয়েছিলাম। বিভিন্ন মাধ্যমে হাসপাতালটি ভালো জেনে সেখানে নিয়ে যাই তাদেরকে। কিন্তু চিকিৎসক কি করেছে তা আমি জানিনা। আর চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনার সময় আমি ছিলাম না।

এ বিষয়ে তালুকদার হাসপাতালের যোগাযোগ (০১৭৪৫১৯৩৫৭৪) করা হলে ফোনের অপর পাশ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, স্যার কারো সঙ্গে ফোনে কথা বলেন না। যেহেতু ৫ মাস আগের অপারেশন তাই ফাইল না দেখে কিছু বলা যাচ্ছেনা।

মন্তব্য করুন


Link copied