স্টাফরিপোর্টার,নীলফামারী॥ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার জেলা পরিষদ স্কুল এন্ড কলেজে চাঞ্চল্যকর ছুরিকাঘাতের ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার(৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে জেলা পরিষদ স্কুল এন্ড কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনার চত্বরে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সমাবেশে অভিভাবকও অংশ নেয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি স্কুল ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। শিক্ষার্থীরা দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পুরো সময় জুড়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো ইমরানুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার(ডোমার-ডিমলা সার্কেল) নিয়াজ মেহেদী এবং ডিমলা থানার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ(ওসি) পরিতোষ চন্দ্র রায়। এসময় নৃশংস এই ঘটনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
অন্যদিকে এ ঘটনার সাথে জড়িত রাব্বি হাসান নামের একজনকে রবিবার(৩০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিমলা থানা পুলিশ। রাব্বি ডিমলা বাবুরহাট গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ পরিতোষ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, মূল আসামি সহ অন্যান্য জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন গত ২৭ নভেম্বর হঠাৎ করেই নাসিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে আল-আলামিনের ওপর উপর্যুপরি হামলা চালায়। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এঘটনায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আল-আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শরীরের কয়েকটি স্থানে অস্ত্র পাচার করা হয়েছে। সে এখনো সংকটাপণ্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এঘটনার একদিন পর ২৮ নভেম্বর আল আমিনের বাবা নুর ইসলাম বাদী হয়ে ঘাতক নাসিম হোসেন(১৮) সহ অজ্ঞাত ৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।