আর্কাইভ  রবিবার ● ২৯ মে ২০২২ ● ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
আর্কাইভ   রবিবার ● ২৯ মে ২০২২

https://www.facebook.com/Safeandsaverestaurant

‘সার্চ কমিটি’র আলোকে ইসি আইনের প্রস্তাব আ.লীগের

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, সকাল ০৯:০৬

ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ ও ‘সার্চ কমিটি’ রীতির আলোকে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এর আগে বিকেলে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটির ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়।  

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের বিষয়ে কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে দলটি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা প্রস্তাবগুলো হলো-

(ক) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগদান করবেন।

(খ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যে রূপ উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সেই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগদান করবেন।

(গ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান সাপেক্ষে একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। বর্তমানে এ ধরনের কোনো আইন না থাকায় সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান ব্যতিরেকে অন্য কোনো আইন প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা নেই।

 

তবে সাংবিধানিক চেতনা সমুন্নত রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা এবং তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এ আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে যে কোনো আইন হবে সাংবিধানিক বিধান মতে একটি বিশেষ ধরনের আইন। এ বিশেষ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ ছিল না। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে একটি রাজনৈতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করতে একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি সাংবিধানিক রীতি ও রাজনৈতিক অনুশীলন ( Constitutional Convention) প্রতিষ্ঠা করেছে। এ সাংবিধানিক রীতিটি হলো ‘সার্চ কমিটি’/‘অনুসন্ধান কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে সবার মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন। এ ব্যবস্থাটি এখন পর্যন্ত দুবার (২০১২ ও ২০১৭) অনুশীলন করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। দুবারই দেশের সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ অনুশীলনে অংশগ্রহণ করেছে। এমতাবস্থায় এই রীতিটির আলোকে এবং এ প্রক্রিয়ালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।  

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করতে বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগ নেতারা

(ঘ) সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে সব নির্বাচনে অধিকতর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

লিখিত বক্তব্য পাঠের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ওবায়দুল কাদের বলেন, চলমান সংসদ অধিবেশনে নির্বাচন কমিশন আইন পাসের সর্বাত্মক প্রয়াস থাকবে।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটির ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিতে ৩২টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

মন্তব্য করুন


Link copied