আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ১৬ আগস্ট ২০২২ ● ১ ভাদ্র ১৪২৯
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ১৬ আগস্ট ২০২২
 
PMBA

জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির যেসব যুক্তি দেখাল সরকার

শনিবার, ৬ আগস্ট ২০২২, বিকাল ০৭:২০

ডেস্ক: দেশে হঠাৎ করে বড় অংকে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এ নিয়ে সাধারণের মনে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। আজ শনিবার সকালে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কারণগুলো তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়য়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সমন্বয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান কমানোসহ পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে। এ ঘোষণায় ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেনের দাম প্রতি লিটারে ৪৬ টাকা আর পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৪৪ টাকা বাড়ানো হয়। গতকাল রাত ১২টা থেকে সরকারের এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।

নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে ১১৪ টাকায়। প্রতি লিটার অকটেনের জন্য দিতে হচ্ছে ১৩৫ টাকা, প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

দাম বাড়ার ব্যাপারে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, এর আগে গত বছরের নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ডিজেল ও কেরোসিন লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৮০ টাকা। তার আগে এই দুই জ্বালানি তেলের দাম ছিল লিটারে ৬৫ টাকা। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা থাকলেও অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ায়নি সরকার। এরপর ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরুতে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়।

মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ডিজেল ৭৪ দশমিক শূন্য ৪ ও অকটেন ৮৪ দশমিক ৮৪ মার্কিন ডলারে নেমে এলে ডিজেল ও অকটেন প্রতি লিটার যথাক্রমে ৮০ ও ৮৯ টাকায় বিক্রি সম্ভব হতো, যা এখন প্রায় অসম্ভব। গত জুলাইয়ে ডিজেল ও অকটেনে বিপিসি প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, এর আগের দুই মাসে লোকসানের পরিমাণ ছিল শতাধিক কোটি টাকা। এ বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিপিসি লোকসান করেছে ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকার ওপরে লোকসান দিয়েছে। এখন প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকায় বিক্রি হলেও বিপিসিকে ৮ দশমিক ১৩ টাকা করে প্রতি লিটারে লোকসান গুনতে হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। কারণ, গত মাসের গড় হিসাবে প্রতি লিটার ডিজেলে ১২২ দশমিক ১৩ টাকা খরচ পড়বে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক বেশি উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, গত মাসের তথ্য অনুযায়ী ভারতের কলকাতায় ডিজেল প্রতি লিটার ৯২ দশমিক ৭৬ রুপিতে (১১৮.০৯ টাকা) বিক্রি হয়। ওই সময়ের হিসাবে কলকাতার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩৪ দশমিক শূন্য ৯ টাকা বেশি ছিল। আর পেট্রলের দম বেশি ছিল প্রতি লিটার প্রায় ৪৪ দশমিক ৪২ টাকা। এ পার্থক্যের কারণে জ্বালানি পণ্যের পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মূল্য সমন্বয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি পণ্যের মূল্যের পার্থক্যজনিত পাচার রোধ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন


Link copied