আর্কাইভ  রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ● ১০ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
 
 
শিরোনাম: উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা কমার আভাস       অস্কারে যাচ্ছে ‘হাওয়া’       রংপুরে জাপানি নাগরিক হত্যায় ইছাহাকের খালাসের আদেশ স্থগিত       রংপুরে ভুয়া চাকুরীদাতা প্রতারক চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার       মরিয়ম মান্নানের মা জীবিত উদ্ধার; ছিলেন স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে      

ঝোপ বুঝে কোপ মারতে চায় জাতীয় পার্টি

শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, দুপুর ১০:৫৫

ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবারও জাতীয় পার্টিতে (জাপা) বিভেদ তৈরি হয়েছে। ফলে ভোটের হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছে দলটি। দলের একটি পক্ষ সক্রিয় হচ্ছে রওশন এরশাদকে সামনে রেখে, যিনি থাইলান্ডে চিকিৎসারত। এ পক্ষটি রওশনের পক্ষে নানা বিবৃতি-বক্তব্য দিয়ে জিএম কাদেরের সামনে একটা শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াতে চাইছে।

রওশনের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলে আসছেন, ‘কেউ দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। ‘শৃঙ্খলা ভাঙার’ অভিযোগে ইতোমধ্যে পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের পদ থেকেও বাদ দেওয়া হতে পারে তাকে।

এ বিভেদের মধ্যে একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজাও জাতীয় পার্টির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটা হলো, আগামী নির্বাচনে তারা কোন পক্ষের সঙ্গে সুর মেলাবে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে, নাকি সরকারবিরোধীদের সঙ্গে? নাকি নিজেদের মতো করে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে? তবে অনেকেই মনে করেন, দলটি নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে। যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা দেখবে, শেষমেশ তাদের দিকেই ঝুঁকবে দলটি। গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে

দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এ মুহূর্তে কোনো জোটে নেই। আগামীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নাও থাকতে পারে।’ তিনি বলেন, গত নির্বাচনেও জাপা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে ছিল না; সমঝোতা ছিল। তবে আওয়ামী লীগ যদি জনগণ ও জাপার আস্থা অর্জন করতে পারে, তা হলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারা থাকবেন। কিন্তু দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এর মধ্যে জাপাকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট থেকেও আহ্বান জানানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন জাপার শীর্ষ নেতারা। আর রওশন পন্থিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকতে চায় বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ‘দ্বিধা-বিভক্ত’ জাপার গন্তব্য কোথায় এমন প্রশ্ন অনেকের।

জানা গেছে, নেতৃত্ব বদল হলেও জাপার উভয় পক্ষ (রওশন-কাদের) বিগত দিনের মতোই ক্ষমতায় থাকার পক্ষপাতী। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, ক্ষমতায় না গেলে দলটি অস্থিত্ব সংকটে পড়বে। কিন্তু আগামী নির্বাচন কী প্রক্রিয়ায় হবে, কোন দল ক্ষমতায় আসবে, তা দলটির নেতাদের কাছে এখনো স্পষ্ট নয়। যে কারণে কিংকর্তব্যবিমূঢ় তারা।

সূত্র বলছে, বিএনপির আহ্বানে জিএম কাদেরসহ দলের অগ্রজ কিছু নেতার সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের বৈঠক হয়েছে। আর এমন খবরে জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ খুুব বিরক্ত। তিনি ‘অদৃশ্য শক্তিকে’ কাজে লাগিয়ে জিএম কাদেরকে দলটির নেতৃত্ব থেকে সরাতে চান। জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মনে করেন, এবারও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই সরকার গঠন হবে। ফলে তিনি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকতে চান।

নাম প্রকাশ না করে দলের তিন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ভাবি রওশনের সঙ্গে দেবর জিএম কাদেরের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। জিএম কাদের চাকরিজীবন ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে আসার পর থেকেই রওশন বিরক্ত। এ বিরক্তির ছাপ বিগত নির্বাচনে ও দলের নেতৃত্বের পালাবদলের সময়েও ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংকট বা দ্বন্দ্ব দুজনের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নয়; এ দ্বন্দ্ব ক্ষমতায় থাকা না-থাকার দর্শন নিয়ে। তবে রওশন এরশাদ দেশে না আসা পর্যন্ত এ দ্বন্দ্বের পরিণতি পরিষ্কার হবে না।

দলটির সম্পাদক পর্যায়ের এক নেতা বলেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দর্শন ও দ্বন্দ্ব তৃণমূলে স্পষ্ট করা হয় না। যে কারণে কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূল জাপার দূরত্ব অনেক দিনের। এ ছাড়া তৃণমূলে এরশাদের জন্ম ও মৃত্যুদিন ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে জাপা বর্তমানে যে অবস্থায় আছে, তাতে রংপুর অঞ্চলের দু-একটি আসন ছাড়া একক নির্বাচনে আর কোথাও জিততে পারবে না। ফলে জাপা যে কোনো উপায়ে জোটে থাকতে চায়। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এবং কোন জোট ক্ষমতায় আসবে, তা স্পষ্ট হলে দলটি সিদ্ধান্ত নেবে।

দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাপার বেশিরভাগ সংসদ সদস্য আছেন জিএম কাদেরের সঙ্গে। কিন্তু তারা কতদিন সঙ্গে থাকবেন, সেটাও একটা প্রশ্ন। ভালো কিছুর ইঙ্গিত পেলে তারাও ভিন্নদিকে পা দিতে পারেন। কারণ বেশ কয়েকজন এমপি আছেন, যারা রওশনের পাশাপাশি জিএম কাদেরের সঙ্গের সখ্য বজায় রাখছেন।

দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর বিপরীতমুখী বক্তব্য নিয়েও নেতার্মীরা বিব্রত। জিএম কাদের বলছেন, আস্থা ফেরাতে পারলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেতে পারেন। অন্যদিকে চুন্নু দৃঢ়ভাবে বলছেন, আগামীতে এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচন করবেন।

এ বিষয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘দলের প্রেসিডিয়াম সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি, আমরা এককভাবে নির্বাচনে যাব। আমি সে কারণেই বলেছি তিনশ আসনে প্রার্থী দেব। নির্বাচন এলে পরিবেশ-পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, সেটা পরের বিষয়।’

মন্তব্য করুন


Link copied