আর্কাইভ  শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১

নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘চলো নদীর কথা শুনি’ সংলাপ

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১, রাত ০৮:০৭

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী॥ নীলফামারীর ডোমারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চলো নদীর কথা শুনি’ শিরোনামে সংলাপ। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আজ বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর/২০২১) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডোমার-নীলফামারী সড়কের ধারে উপজেলার কলমদার-বুড়িখোড়া নদীর পারঘাট নামক স্থানে ওই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি  (বেলা) ও রিভারাইন পিপল ওই সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নিবার্হী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এসময় তিনি বলেন,‘নীলফামারীর নদীর অবস্থা সম্পর্কে যতটা ভালো শুনে এসেছিলাম ততটা ভালো নয়। নদীর দুই ধারের মানুষের সঙ্গে আলোচনা না করে প্রকল্প গ্রহন করা যাবে না। আইনে থাকা সত্বেও জনগনের মতামত প্রতিফলন হচ্ছে না। জীববৈচিত্র পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো প্রকল্প গ্রহন করা উচিৎ নয়। আমার কাছে যদি কোটি কোটি টাকা থাকে, আর নদী না থাকে তাহলে আমরা বাঁচবো না। নদী প্রকৃতির সম্পদ, একে নষ্ট করার অধিকার কারো নেই।’

অনুষ্ঠানের মূখ্য আলোচক ছিলেন রিভারাইন পিপলের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ।তিনি বলেন, ‘নদী রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের করণীয় আছে। কোথাও কোনো নদী দখল-দূষণ হলে স্থানীয়দের ভূমিকা রাখতে হবে। সে জন্য নদী রক্ষায় সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজন আছে।’

অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন ডোমার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম,  বরেন্দ্র উন্নয়ন কতৃপক্ষের রংপুর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ, নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আমিনুল রহমান, দেওনাই নদী সুরক্ষা কমিটি ও নীলফামারী জেলা নদী সুরক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আব্দুল ওয়াদুদ, বেলার উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক তন্ময় স্যান্যাল প্রমুখ ।

সংলাপে স্থানীয় সাংবাদিক রায়হান সবুক্তগীন অনিকেত অভিযোগ করে বলেন,‘দেওনাই নদীর বেড ডিসিআর কেটে দেওয়া হচ্ছে। শালকী নদীর চারটি সেতুর নিচে উঁচু করে বেড নিমার্ন করায় নদীটি চৌবাচ্চায় পরিনত হয়েছে।’ সেতু নির্মানের সময় বেড নিচু করে নিমার্ন করা যায় কিনা সে দিকে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
এলাকার ভুক্তভোগি কৃষক আনোয়ার হোসেন (৫০) বলেন,‘পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খনন করে আমার জমিতে বালু রেখেছে প্রায় দেড় বছর ধরে । এতে আমি ফসল উৎপাদন করতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছি।’

বরেন্দ্র উন্নয়ন কতৃপক্ষের রংপুর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ জানান, নীলফামারী জেলায় প্রায় ৫৯৮ কিলোমিটার নদী আছে।

মন্তব্য করুন


Link copied