আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ১৬ আগস্ট ২০২২ ● ১ ভাদ্র ১৪২৯
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ১৬ আগস্ট ২০২২
 
PMBA

লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ

সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২, রাত ০১:১৩

যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আপাতত এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে না। ফলে দেশে দেখা দিয়েছে গ্যাস ঘাটতি। গ্যাস ঘাটতির কারণে আজ সারাদেশে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল। দুঃসংবাদ হচ্ছে সহসাই এই ঘাটতি পূরণের কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি মেটানোর কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। যদিও তা সহসা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, গ্যাস স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক জায়গাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হবে।

এদিকে পিডিবি জানায়, রবিবার দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৪০ মেগাওয়াট। এ হিসেবে গড়ে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ গ্যাসের প্রয়োজন তার তুলনায় কম পাচ্ছি। আগে যেখানে গড়ে ১৪০০/১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া পাওয়া যেতো সেখানে এখন ১ হাজারের নিচে পাচ্ছি। আপাতত তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিশ্ববাজারে গ্যাসের মতো অন্য সব জ্বালানিরও দাম বাড়ছে। সুতরাং গ্যাসের এই ঘাটতির সমাধান না হলে লোডশেডিং করেই আমাদের পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

এদিকে পেট্রোবাংলা জানায়, সাধারণ হিসেবে বিদ্যুতে প্রায় ২২০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদা রয়েছে। তবে সাধারণত সরবরাহ করা হয় ১৪০০/১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আজ সেখানে সরবরাহ করা হয়েছে ৯৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এই হিসেবে ঘাটতি প্রায় ৪৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো।

তবে পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, আজ সব মিলিয়ে আমাদের ঘাটতি ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অনেক বেশি হওয়ায় আমরা আপাতত এলএনজি কিনতে পারছি না। কিনলে অনেক বেশি লোকসান দিতে হবে। যতদিন দাম না কমে অথবা দেশীয় উৎপাদন না বাড়ে ততদিন লোড ম্যানেজমেন্ট করেই আমাদের চলতে হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির বাজার এখন অস্থির। বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের অবস্থা আলাদা নয়। সুতরাং পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

কবে নাগাদ দেশীয় গ্যাস পাওয়া যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। আমরা কাজ করছি। শ্রীকাইলে সম্প্রতি কাজ শুরু করেছি। চলতি বছরের মধ্যে সেখান থেকে গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আমরা আশা করছি। তিনি বলেন, সারাবিশ্বের মতো আমাদেরও এখন সাশ্রয়ী হতে হবে। যতটা সম্ভব অপচয় বন্ধ করতে হবে। প্রসঙ্গত, গ্যাস ঘাটতির এই প্রভাব শুধু বিদ্যুতে নয় সার, শিল্পসহ অন্য খাতেও পড়বে বল শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার থেকেই রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় আধাঘণ্টা থেকে দশ মিনিট করে লোডশেডিং হচ্ছিল। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় দিনে প্রায় তিন চার বার করে লোডশেডিং হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মন্তব্য করুন


Link copied