আর্কাইভ  শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১

সীমানা জটিলতা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচন

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১, বিকাল ০৫:৫৬

স্টাফ রিপোর্টার,নীলফামারী॥ সীমানা জটিলতার মামলার কারনে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচন এবার হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর/২০২১) নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ঘোষিত অষ্টম ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর যে ১০টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে তাতে নীলফামারী পৌরসভা রয়েছে। দীর্ঘদিন পর নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষনায় এলাকার ভোটার ও সম্ভাব প্রার্থীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। নীলফামারী পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। সে হিসাবে এই পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে প্রায় দশ বছর পর। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২ নভেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষ হবে আগামী ৪ নভেম্বর। প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ১১ নভেম্বর এবং ভোটগ্রহণ হবে ২৮ নভেম্বর। ঘোষনার পরে এ ব্যাপারে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে কথা বলা হলে, সীমানা জটিলতার উচ্চ আদালতের মামলার বাদী জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রশিদ প্রামানিক মঞ্জু জানান, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাদের সীমানা বৃদ্ধি করলে তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় গ্রেজেট হিসাবে পাস করে। আমার ইউনিয়ন সহ পাশ্ববর্তী কুন্দুপুকুর ও খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের বৃহৎ অংশ চলে যায় পৌরসভায়। যার প্রেক্ষিতে আমি ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। পরে এলাকায় জরিপ দেখা গেছে ওই সব এলাকাবাসী পৌরসভার সাথে সংযুক্ত হতে আগ্রহী। যার প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারী আমি উচ্চ আদালত হতে মামলা প্রত্যাহার করে নিলে নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচনের বাধা কেটে যায়। এ বিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আফতাব উজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নীলফামারী পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারী। নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র ও কাউন্সিলরগন দায়িত্ব গ্রহন করে প্রথম সভা করেন ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী। নীলফামারী পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হলেও সীমানা বৃদ্ধি করে ১৫টি ওয়ার্ড গঠনের জন্য প্রস্তাব প্রেরন করে নীলফামারী পৌরসভা কর্তৃপ। ফলে পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধি করা হয়। এতে পাশ্ববর্তী ইটাখোলা, কুন্দুপুকুর, খোকশাবাড়ি বেশ কিছু অংশ পৌরসভার সঙ্গে সংযুক্ত করে ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারী প্রজ্ঞাপন জারী করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। উক্ত প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করছিল ইটাখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। উচ্চ আদালতে মামলার কারনে নীলফামারী পৌরসভার ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়। ফলে ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী নীলফামারী পৌরসভা, কুন্দুপুকুর ও ইটাখোলা ইউনিয়নের ২০১১ সালের ৮ জুন এবং খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের ২০১৬ সালের ৪ জুন জন প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হলেও সীমানা জটিলতার কারনে উচ্চ আদালতে মামলা চলামান থাকায় নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই দায়িত্ব পালন করে আসছিল। নীলফামারী পৌরসভার টানা ৩৩ বছরের মেয়র, বাংলাদেশ মিউনিসিপালিটি অ্যাসোসিয়েশনের (ম্যাব) সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ চিকিৎসাজণিত কারনে যুক্তরাষ্টে অবস্থান করছেন। পারিবারিক সুত্র মতে তিনি আগামী ১৯ অক্টোবর দেশে ফিরবেন এবং পুনরায় পৌর নির্বাচনে অংশ নেবেন। নীলফামারী পৌরসভা সুত্র মতে ১৯৬৪ সালে নীলফামারী টাউন কমিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ লোকাল কাউন্সিল অ্যান্ড মিউনিসিপাল কমিটিস (অ্যামেমেন্ট) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী নীলফামারী টাউন কমিটিকে নীলফামারী পৌরসভা করা হয়। তখন এটি “গ” শ্রেণীর পৌরসভা ছিল। ১৯৯৬ সালে এ পৌরসভাকে গ থেকে “খ” শ্রেনীর পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে। এরপর নীলফামারী পৌরসভাকে ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ “ক” শ্রেণীর পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে। নীলফামারী পৌরসভার মোট আয়তন ১৯.২৮ বর্গ কিলোমিটার ছিল। এটির সীমানা বৃদ্ধি করে ১৫টি ওয়ার্ড বৃদ্ধি করতে টুপামারী, কুন্দপুকুর, ইটাখোলা ও খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের বেশ কিছু অংশ সংযুক্ত করা হয়। নীলফামারী পৌরসভার সচিব মশিউর রহমান বলেন, সীমানা জটিলতার মামলা উচ্চ আদালতে নিস্পক্তি হওয়ায় অষ্টম ধাপে নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেছেন নির্বাচন কমিশন(ইসি)।

মন্তব্য করুন


Link copied