আর্কাইভ  শুক্রবার ● ১ জুলাই ২০২২ ● ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
আর্কাইভ   শুক্রবার ● ১ জুলাই ২০২২
PMBA
PMBA

আন্তর্জাতিক ভোক্তা অধিকার দিবসে আমার ভাবনা

মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২, দুপুর ০২:৩৪

শেখ মাজেদুল হক

১৫ মার্চ আন্তর্জাতিক ভোক্তা অধিকার দিবস। ১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কংগ্রেসে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে বক্তৃতা দেন। নিরাপত্তার অধিকার, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার,পছন্দের অধিকার এবং অভিযোগ প্রদানের অধিকার ভোক্তাদের এ চারটি মৌলিক অধিকার সম্পর্কে তিনি আলোকপাত করেন যা পরবর্তী ভোক্তা অধিকার আইন নামে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের মাধ্যমে জাতিসংঘ ভোক্তা অধিকার রক্ষার নীতিমালায় কেনেডি বর্ণিত চারটি মৌলিক অধিকারকে আরো বিস্তৃত করে অতিরিক্ত আরো আটটি মৌলিক অধিকার সংযুক্ত করা হয়। কেনেডির ভাষণের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫ মার্চকে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে বৈশ্বিকভাবে পালন করা হয়। 

একজন বিক্রেতার বা উৎপাদকের অধিকার রয়েছে উৎপাদিত পণ্য থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ লাভ করা। বিপরীতে একজন ভোক্তার অধিকার রয়েছে তার পরিশোধিত মূল্যের বিনিময়ে নির্ধারিত পণ্য পাওয়া।বাজার ব্যবস্থার প্রধান দুটি দিক হলো ক্রেতা ও বিক্রেতা। যদিও যিনি ক্রেতা তিনি ভোক্তা নাও হতে পারেন তবে ধরা হয় ভোগের উদ্দেশ্যেই তিনি ক্রয় করেন। অর্থাৎ তিনিই ভোক্তা। একজন ভোক্তা হিসেবে ক্রেতার যে অধিকারগুলো আছে বলে জানা দরকার তা আমাদের দেশে খুব কম মানুষই জানে। সেজন্যই একদিকে যেমন অসাধু ব্যবসায়ী লাভবান হয় তেমনি বাজার ব্যবস্থাও প্রভাবিত হয়।একজন ক্রেতার সাথে ভোক্তার সম্পর্ক হবে আন্তরিক এবং বিশ্বস্ততা পূর্ণ । অর্থাৎ নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে ভোক্তা যে পণ্যটি কিনবে তা যেন কিনে যেন সে না প্রতারিত হয়। যদি এভাবে সম্পর্ক এগিয়ে যায় তাহলে উভয়ের ভেতর হৃদ্যতা বৃদ্ধি পাবে। ভোক্তা হিসেবে জাতিসংঘ স্বীকৃত ভোক্তা অধিকার ৮টি। এগুলো হলো, মৌলিক চাহিদা পূরণের অধিকার, তথ্য পাওয়ার অধিকার, নিরাপদ পণ্য বা সেবা পাওয়ার অধিকার, পছন্দের অধিকার, জানার অধিকার, অভিযোগ করা ও প্রতিকার পাওয়ার অধিকার, ভোক্তা অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা লাভের অধিকার, সুস্থ পরিবেশের অধিকার। 

 প্রায়ই দেখা যায় প্রতিশ্রুত সেবা প্রদানে অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক সেবা না দেয়ার কারণে প্রায়ই জীবনহানি ঘটছে। জীবনহানির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতিক্রিয়া দেখালে বা সুবিচার চাইলে এসব অসাধু সেবাদাতারা সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করছে বা সামগ্রিকভাবে অন্য সেবা গ্রহীতাদের সেবাদানে বয়কট করছে। আমরা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে মেডিকেলে, বাস, লঞ্চ-স্টীমারের ক্ষেত্রে এসব সমস্যার সম্মুখীন হই। এটা মূলত: আইন মান্য না করা এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের জাতীয় দীনতা, হীনতার বহিঃপ্রকাশ বৈকি। একজন চিকিৎসক কিংবা অন্য কোনো সেবাদাতাকে যে অপরাধের জন্য তার লজ্জা পাওয়া উচিত ছিল, ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল, তা না করে সে ঔদ্ধতপনা করছে, আস্ফালন করছে, হুমকি দিচ্ছে, ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন ধরনের শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় সে দ্বিগুণ হারে অপরাধ করছে। এর সবকিছুই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।এছাড়া যে দেশ নকল-ভেজালের স্বর্গরাজ্য- কৃষিতে- জমিতে ভেজাল, করোনা টেস্ট এর রেজাল্ট ভেজাল, রাজনীতিতে ভেজাল, নেতাতে ভেজাল, খেলার মাঠে ভেজাল, শিল্পী সমিতিতে ভেজাল, বিচারক ভেজাল , শিক্ষায় ভেজাল , চিকিৎসায় ভেজাল (অবহেলায় রোগীর মৃত্যু) আর সেখানে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যের সন্ধান কতটা যৌক্তিক ?? কিন্তু এরপরও মানুষের চাহিদা ভেজালমুক্ত পণ্যের সন্ধান থাকবেই চিরকাল। অসচেতন ভোক্তার নিরবতা ও নির্লিপ্ততায় অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্যে-পণ্যে বিষাক্ত ক্যামিকেল দিয়ে খাবারকে বিষে পরিণত করে জনগণেরর পকেট কেটে টাকার পাহাড় গড়ছে অনায়াসেই । বাংলাদেশে পাঁচ কোটি লোক খাদ্য বিষক্রিয়ায় ভুগছে। রাজধানী ঢাকার পঞ্চাশ থেকে ষাট ভাগ সবজিতেই বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মিশানো থাকে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৭৬টি খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে যার চার ভাগের তিন ভাগ নমুনায় ভেজাল পায়।সারাদেশে অ্যালোপ্যাথিক ঔষধ কোম্পানি ২৪৬টি, আয়ুর্বেদিক কোম্পানি ২২৪টি, ইউনানি কোম্পানি ২৯৫টি, হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠান ৭৭টি সহ মোট ৮৪২টি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট তৈরি করছে ১০৬টি প্রতিষ্ঠান। ৪০ থেকে ৫০টি ব্যতীত বাকি কোম্পানিগুলো নকল, ভেজাল ও ন্নিমানের ঔষধ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখেছেন নকল ও ভেজাল ঔষধের অনেকগুলোর মধ্যে কোনো কেমিকেল উপাদান নেই। ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয় এসব ঔষধ।

আজকাল অসাধু ব্যবসায়ি চাতুর্যপূর্ণ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট করে  ক্রেতাকে ঠকাচ্ছে। ওজনে কম, নিম্নমানের পণ্য দেওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য দেওয়া বা মূল্য অনুযায়ী সেবা না দেওয়া ইত্যাদি নানাভাবে প্রতারিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যায়। অথচ এটা অনেকেই জানে না বা জানলেও তা করছে না। 

আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম না বাড়লেও দেশীয় বাজারে কালোবাজারি, মজুদদারির মাধ্যমে লবণ, সয়াবিন তেল, চিনি সহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশ এক নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। রমজান মাস ইবাদতের মাস। পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে রমজান মাস উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য কমানো হয়। অথচ আমাদের দেশে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে রমজান মাসকে উপলক্ষ করে সবজি, ফলমূল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি হয় । ভোক্তা হিসেবে পরিতাপের বিষয়। সত্যিই আমরা অবৈধ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজার পরিলক্ষিত বিষয় হচ্ছে যে, সরকার যেখানে ভোজ্য সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সেখানে আমাদেরকে অতিরিক্ত দামে ক্রয় করতে অনেকটা দোকানদাররা বাধ্য করছে। নির্ধারিত দামে পণ্য ক্রয় করতে চাইলে দোকানদার বলে যে পণ্য নেই অথচ তারা অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এমত অবস্থায় নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের লোকেরা টিসিবির গাড়ির পিছনে ছুটেও কাঙ্খিত পণ্য লাভ করতে পারছে না। কেউ কেউ অদূর ভবিষ্যতে বা সামনে রমজান উপলক্ষে আরও মূল্য বেড়ে যাবে এই ভয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য বাসায় মজুদ করে রাখছি এতে করে যোগান এবং চাহিদার ভারসাম্যহীনতার কারণে অনেকেই অর্থ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পণ্য পেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে । তাই এসব কাজে আমাদের জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরী। সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যের দাম যে হারে বাড়িয়েছে বাস মালিকরা তার থেকে অনেক বেশি ভাড়া বাড়িয়েছে । এমনকি যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। করোনাকালীন সময় আমরা লক্ষ্য করেছি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি আসন ফাঁকা রেখে দূরপাল্লার বাস চলবে এবং যাত্রীকে দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হবে। বাস মালিক-শ্রমিকরা ভাড়া দ্বিগুণ নিয়েছে ঠিকই আবার দুটো আসনে যাত্রীও বসিয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে জবাবে শোনা যায় দীর্ঘদিন যাবৎ তারা রাস্তায় না থাকার কারণে তাদের অনেক খরচ এবং ঋণ বেড়ে গেছে তাই এখন সেটা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করে নিতে হবে অথবা আপনি তো একাই এই গাড়িতে বলছেন আর তো কারো সমস্যা হচ্ছে না, আপনার যদি সমস্যা হয় তাহলে নিজে একটি প্রাইভেটকার কিনে সেটাতে চলাফেরা করেন অথবা অন্য গাড়িতে চলে যান ইত্যাদি ইত্যাদি। আর অতি লোভী ডাক্তার বাবুর কাছে গেলেই রোগের নাম শোনার আগেই হাতে লিস্ট ধরিয়ে বলেন যেই পরীক্ষাগুলো করে নিয়ে আসেন তারপর কথা বলবো মাত্রাতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয়' ল্যাব টেস্ট এর কারণে চিকিৎসা ব্যয় শুধু বেড়েই যাচ্ছে না এ ক্ষেত্রে রোগী মানসিক এবং শারীরিক ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে ভুল ট্রিটমেন্ট হচ্ছে। কিছু ডাক্তারের হাতে লেখাতো বুঝাই যায়না। নির্ধারিত ফার্মেসী ছাড়া ওই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ওষুধ পাওয়া যায় না ।অথচ এই ডাক্তার কয়েকদিন আগে আমাদের দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়ালেখা করেছে ।এখন তারা ইচ্ছামত ফি নির্ধারণ করে দিচ্ছে ।রোগী দেখাতে গেলে সর্বনিম্ন দশ হাজার টাকা নিয়ে যেতে হয়। স্বাস্থ্যসেবায় দালাল, নার্স কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য তো আছে ই। অপ্রয়োজনীয়' ও ভুল অপারেশনের কারণে অনেকেই জীবনে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এসব থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্যই ভোক্তা অধিকার দিবস। আসুন আমরা যারা সেবাদানের সাথে জড়িত আছি আমরা সকলে আরো বেশি মানবিক হয়ে মানুষকে ভালোবাসে সেবাদান করে। কারণ আমি শুধু সেবা দাতাই নই অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি সেবা গ্রহীতা। আমি যদি মানুষকে ভাল সেবা না দেই তাহলে অপরের কাছ থেকে আমি ভালো সেবা আশা করতে পারি না। মনে রাখবেন আপনি ভালো মন্দ যা দিচ্ছেন তাই একদিন ফেরত পাবেন অপরের কাছ থেকে ।এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

এরপরও ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ ও তাদের অধিকার রক্ষায় একটি কার্যকর আইন প্রণয়নের দাবি ছিল দীর্ঘ দিনের। তারই প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯। আইনটি প্রণয়নের ফলে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও ভোক্তা তথা জনগণ এর সুফল পেতে শুরু করেছে।আগে যেখানে অসাধু ব্যবসায়িরা প্রকাশ্যেই পণ্যে ভেজাল মেশাতেন, আজ সেখানে কিছুটা হলেও রাগঢাক করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভোক্তা অধিকার আইন প্রণয়নের ১২ বছর পরও আইনি দুর্বলতায় ও প্রচারণার অভাবে সুফল মিলছে না। ভোক্তা অধিকার লংঘনের দায়ে কোথায় কিভাবে অভিযোগ করতে হবে- এ সম্পর্কে জানা না থাকার কারণে ভোক্তারা অধিকার লংঘনের ব্যাপারে অভিযোগ করতে পারছে না। অনেকে সচেতন না হওয়ার কারণেও অভিযোগ করছে না। ভোক্তা অধিকার লংঘন ঠেকাতে প্রতিষ্ঠিত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কার্যক্রম কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। ফলে ভোক্তারাও এর কোনো সুফল পাচ্ছে না।

 ধরা যাক, কেউ বাজারে পণ্য কিনতে গেছেন। কোনো না কোনোভাবে প্রতারিত হয়েছেন। কিন্তু কাকে জানাবেন সেই অভিযোগ? এক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানে হলো ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯। এ আইনে সহজেই পাওয়া যেতে পারে পণ্যে ভেজালের প্রতিকার।আমাদের ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য রয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কারণগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি কারণে যে কেউ যেদিন প্রতারণার শিকার হবেন সেদিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তার নাম, পিতা ও মাতার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ফ্যাক্স ও ই-মেইল উল্লেখ করে এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ঢাকার কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে অবস্থিত) মহাপরিচালক কিংবা অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন না করলে অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে এই আইনের অধীনে আদালতে সরাসরি কোনো মামলা যায় না। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তসাপেক্ষ মামলা শুধু ভোক্তা অধিদপ্তর করতে পারবে। ঢাকা জেলার বাইরে এবং যেসব জেলায় অধিদপ্তরের শাখা নেই সেসব জেলায় এই আইনে মহাপরিচালককে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর ন্যস্ত থাকবে। ভোক্তার ক্ষতি যদি আর্থিক মূল্যে নিরূপণযোগ্য হয়, তবে ক্ষতিপূরণ দাবি করেও যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করতে পারবেন। আদালত ক্ষতিপূরণ প্রদান ছাড়াও পণ্যের প্রতিস্থাপন বা ফেরত দিয়ে পণ্যের দাম ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। এ ছাড়া অভিযোগ করার পর তদন্তে অভিযোগটি প্রমাণিত হলে জরিমানা হিসেবে যে টাকা আদায় করা হবে, তার শতকরা ২৫ ভাগ টাকা ভোক্তা পাবেন। এ ছাড়া তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে প্রত্যেক ভোক্তার তাঁর সেবা সম্পর্কে জানার অধিকার রয়েছে।এসব অপরাধের শাস্তি অনূর্ধ্ব তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে দণ্ডিত ব্যক্তি একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে তিনি বর্ণিত দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

জীবনের নিরাপত্তা কিংবা কাজের নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক ভোক্তার অধিকার রয়েছে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে পাওয়ার। আমরা সবাই কোনো না কোনো পণ্য বা সেবার ভোক্তা বা গ্রহীতা। তাই আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন কার্যকরে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। এসব অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, কারচুপি, মানহীনতা প্রতিরোধে একাধিক আইন রয়েছে। শুধু আইন প্রণয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, চাই আইনের যথাযথ কার্যকারিতায় সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা।

তাই ভোক্তাই প্রথম, ভোক্তারাই সর্বে সর্বা । ভোক্তারাই সব শক্তির উৎস। আমরা ভেজাল পণ্য না কিনলে উৎপাদনকারী কোম্পানি যত বড়ই হোক না কেন একদিন তাকে পথে বসতেই হবে। আসুন, আমরা ভোক্তার অধিকার বিষয়ে সচেতন হই, ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি। সেই সাথে ভেজালের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হই।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, মার্কেটিং বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

email: [email protected]@ac.bd 

 

 

 

মন্তব্য করুন


Link copied