আর্কাইভ  রবিবার ● ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   রবিবার ● ৫ ডিসেম্বর ২০২১

রংপুরে সংবাদ সম্মেলন ॥ শঙ্কায় সেলিম হায়দার ও তার পুরো পরিবার

রবিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২১, বিকাল ০৫:৪৩

মমিনুল ইসলাম রিপন : রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে অপহরণের শিকার লালমনিরহাটের ব্যবসায়ী সেলিম হায়দার নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ঘটনার ১২দিন অতিবাহিত হলেও এখনো অপহরণকারী চক্রের কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে সেলিম হায়দার ও তার পুরো পরিবার।

আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। রোববার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা তুলে ধরেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ঝারিরপাড়া গ্রামের এই ব্যবসায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম হায়দার বলেন, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারে রংপুর থেকে গ্রামের বাড়ি যাবার পথে কালিগঞ্জ রােডে ঢাকার শাহজাহানপুরের কামাল হােসেন রওফে টিপু, আজিম চৌধুরী, আরাফাত চৌধুরী, শরিয়তপুরের গােসাইয়েরহাটের সেজুতি খন্দকার, আদিতমারীর আব্দুল জলিল মিয়া ও রংপুরের মাহিগঞ্জ দেওয়ানটুলির বেলাল হােসেনসহ আরও ৪-৫ জন তার গাড়ির গতিরোধ করেন। এসময় তারা নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ি চালক মনিরুজ্জামান ওরফে মুন্নাকে পিস্তল, হ্যান্ডকাফ ও ওয়ারলেস দেখিয়ে শার্টের কলার ধরে গাড়ি থেকে বাহিরে বের করে এবং আমাকে মারধরে জখম করে। এরপর একটি গাড়িতে (চট্ট মেট্রো-চ-৫১-০৭২৪) করে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর গত ২০ অক্টোবর অপহরণকারীরা মােবাইল ফোনে আমার স্ত্রী তাহেরা বেগমকে এক পরিচিত
ব্যক্তি ফোন করে ২০ কোটি টাকা অথবা ফ্লাট, ইটাভাটা ও জমি কবলা রেজিস্ট্রের মাধ্যমে আমাকে মুক্তি দেয়া হবে এবং আমাকে ঢাকার গুলশান এলাকায় আটকিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানায় অপহরকারীরা। এ ঘটনায় আমার স্ত্রী নিজে বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর গঙ্গাচড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

সেলিম হায়দারের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অপহরণকারীরা তার ক্ষতি করার সুযােগ খুঁজছিল। তাই চক্রটি তাকে অপরহণ করেছিল। তিনি সুযােগ বুঝে গত ২৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে এসে গঙ্গাচড়া থানাকে বিষয়টি অবগত করেন। পরে থানা পুলিশের মাধ্যেমে গঙ্গাচড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল আমলি আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

অপহরণের এ ঘটনার সাথে  আরও ৫ জন জড়িত রয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করেনি। এতে আমরা অনেকটা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি। আসামিরা যে কোন সময় আমার পরিবারের ক্ষতি করবে এমন আশংস্কা করছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে অপহরণকারী চক্রকে আইনের আওতায় নেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দাবি জানান তিনি।

মন্তব্য করুন


Link copied