আর্কাইভ  রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ● ১০ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
 
 
শিরোনাম: রংপুরে ভুয়া চাকুরীদাতা প্রতারক চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার       মরিয়ম মান্নানের মা জীবিত উদ্ধার; ছিলেন স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে       ডেপুটি স্পিকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আ.লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ       এনআইডিতে লাগবে ১০ আঙুলের ছাপ       গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিক, সম্পাদক মোজাম্মেল      

রাবিতে আশ্রয় নিচ্ছে শামুকখোল পাখিরা

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, রাত ১০:৪২

রাবি প্রতিনিধি : সবুজ মতিহারে অবস্থিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাম্পাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। সারা বছরই এ ক্যাম্পাস সেজে থাকে নানা রূপে। আর শীত আসলে সে রূপ বেড়ে যায় বহুগুণ। এসময় অতিথি পাখিদের আগমণে যেনো প্রাণে ছোঁয়া লাগে পুরো ক্যাম্পাসে। শীতের আগমনী বার্তা নিয়েই রাবি ক্যাম্পাসে এসেছে শামুকখোল বা শামুকভাঙা পাখি। মুন্নুজান হলের সামনের ও তাপসী রাবেয়া হলের পেছনের গাছগুলোতে তাদের দেখা গেছে। দিন দিন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় ২০ থেকে ২৫ টি পাখি দেখা গেলেও বর্তমানে প্রায় শতাধিক পাখির অবস্থান করছে। তবে এর আগে শামুকখোর পাখিগুলো অবস্থান করতে দেখা গেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক)। সমসাময়িক সেখানে গাছ নির্ধনের ফলে তারা এখন রামেক ছেড়ে অবস্থান নিচ্ছে রাবিতে ।  

পাখি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের শেষ দিকে হিমালয়ের উত্তরে প্রচণ্ড শীত নামতে শুরু করে। ফলে উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল সাইবেরিয়া, নেপাল, মঙ্গোলিয়া, চীন ও ভারতে প্রচুর তুষারপাত হয়। এসব অঞ্চলে শীতের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে পাড়ি জমায় বিভিন্ন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। এ সময় হাজার হাজার পাখি বাংলাদেশেও আসে। তার মধ্যে কয়েক বছর ধরে এ পাখির দেখা মিলছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক)। কিন্তু এবছর সেখানে গাছ কাটার ফলে তারা এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেছে। 

মার্কেটিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ইকোলজি এন্ড স্নেক রেসকিউ ফাউণ্ডেশনের পার্মানেন্ট রেসকিয়ার মোঃ নাজমুল হোসেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পর্যবেক্ষণ শেষে জানান, পাখিগুলো বর্তমানে মুন্নুজান হলের সামনে গাছগুলোতে কলোনী করে থাকতে দেখা গেছে। তবে তারা এখনো সেখানে বাসা তৈরি করে নাই। তারা মূলতো রেস্টিং কলোনি করে আছে। তবে আমরা যদি তাদেরকে কোন সমস্যা না করি তবে তারা এখানে ব্রিডিং কলোনী তৈরি করবে। যেমনটা তারা রাজশাহী মেডিকেলে করেছে। কলোনী গুলো সাধারণত দুই ধরনের করে থাকে রেস্টিং ও ব্রিডিং। প্রাথমিক ভাবে তারা রেস্টিং কলোনী করে থাকে এবং নিজেদের সুরক্ষিত মনে করলে তারা ব্রিডিং কলোনী করে প্রজনন করে। 

তিনি আরও বলেন, এবিষয় নিয়ে আমরা উপাচার্য স্যার এর সাথে কথা বলেছি তিনি আমাদের সেগুলো দেখে রাখতে বলেছেন এবং কেউ যেন সেগুলো শিকার বা কোনো পুকুরে বিষ না দেয় সে জন্য একটা লিখিত আবেদন পত্র দিতে। 

এছাড়াও ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার জানান, তাপসী রাবেয়া হল ও রহমতুন্নেসা হলের পিছনের গাছগুলোতে এক প্রজাতির পানকৌড়ি ও নিশিবক কলোনী তৈরি করে থাকছে । এখানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টি পাখি অবস্থান করছে বলে জানান এই শিক্ষার্থী। 

পাখিদের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সুলতান উল ইসলাম বলেন, শামুকখোল পাখি গুলো আগে রামেকে অবস্থান করতো তারা এখন আমাদের ক্যাম্পাসে অবস্থান নিচ্ছে । এখানে পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও প্রজননের ব্যবস্থাও আছে। পাখিদের সুরক্ষার জন্য দূর্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হবে। লিস দেওয়া পুকুর গুলোতে যেন বিষ না দেয় সেজন্য আগেই সতর্ক করে দেওয়া হবে। এই পাখি গুলোকে যেন কেউ বিরক্ত না করে সেজন্য সবসময় মনিটরিং করা হবে।

উল্লেখ্য,শামুকখোল পাখির ইংরেজি নাম Asian Openbill আর বৈজ্ঞানিক নাম Anastomus oscitans । এই পাখির ঠোঁটের সাথে অন্য কোন পাখির ঠোঁটের মিল নেই। শামুকখোল পাখির ঠোঁটের নিচের অংশের সাথে উপরের অংশে বড় ফাঁক। এরা এই বিশেষ ঠোঁটে শামুক তুলে চাপ দিয়ে শামুকের ঢাকনা খুলে ফেলে এবং ভিতরের নরম অংশ খেয়ে নেয়। মূলত শামুকের ঢাকনা খোলার শৈল্পিক কৌশলের কারণেই এই পাখির নাম করণ করা হয়েছে শামুকখোল পাখি।

মন্তব্য করুন


Link copied