আর্কাইভ  শনিবার ● ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ● ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
আর্কাইভ   শনিবার ● ১০ ডিসেম্বর ২০২২
 width=

 

রংপুরে বহিষ্কার হলেন আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিলন

রংপুরে বহিষ্কার হলেন আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিলন

রংপুর সিটি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ

রংপুর সিটি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ

রংপুর সিটি নির্বাচনে আ'লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার ইশতেহার ঘোষণা

রংপুর সিটি নির্বাচনে আ'লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার ইশতেহার ঘোষণা

রংপুর সিটি নির্বাচন : ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

রংপুর সিটি নির্বাচন : ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

 width=
শিরোনাম: রংপুরে ট্রাকের চাপায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত       বিশ্বকাপ শেষ ব্রাজিলের, স্বপ্নভঙ্গ টাইব্রেকারে       রংপুরে বহিষ্কার হলেন আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিলন       বেগম রোকেয়া দিবসে নীলফামারীতে ৩৪জন শ্রেষ্ঠ জয়িতা পুরস্কার পেলেন       নীলফামারীতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত      
 width=

আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২, সকাল ০৯:০২

শেখ মাজেদুল হক

প্রতিষ্ঠিত: ২০০৮ সালের ১২ই অক্টোবর

প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান

আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু: ২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল

২০০৯ সালে নাম পরিবর্তন

২০১১ সালে ৭৫ একরের স্থায়ী ক্যাম্পাসের শুভ উদ্বোধন

রংপুরের মাটি ও মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল এই অঞ্চলে যেন একটি মান সম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলা হয়। যেখানে এ অঞ্চলের ছেলে মেয়েরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অংশ নিয়ে সুনাগরিক হয়ে উঠবে। দেশ ও দশের মুখ আলোকিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয় করার সেই দাবি কিছুটা বাস্তবায়নের মুখ দেখেছিল ২০০১ সালে।

তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় রংপুরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের সাথে সাথে সে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। রংপুরের মানুষ তাদের স্বপ্ন ভাঙার হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা থেমে থাকে না। সমাজের সুধীজন ও সচেতন নাগরিক, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আপামর সব মানুষ এই দাবিকে আরও জোরালো করে তুলে। সবার মুখে এক দাবি যে রংপুরের বুকে একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক, যে বিশ্ববিদ্যালয় এই উত্তরের অবহেলিত মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ কষ্ট ঘুচাবে। নিজেরা জ্ঞান অর্জন করে সেবা করার জন্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। এজন্যই আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে অনড় থেকে যায়।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে এলো সেই স্বপ্নের মাহেন্দ্রক্ষণ ২০০৮ সাল। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রংপুরের মানুষের যৌক্তিক দাবির প্রতি সাড়া দেয়। পূর্বের পরিকল্পিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানকেই তারা বেছে নেয় রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য। ২০০৮ সালের ১২ই অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুরের মানুষের প্রাণের দাবি রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়। চারদিকে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, এমনকি রংপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি বিতরণও হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বাস্তবায়নের কথা শুনে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান। এরপরেও অনিশ্চয়তার কালো মেঘ কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য সর্বস্তরের মানুষ ব্যাপক চাপ প্রয়োগ শুরু করে। এরপর অস্থায়ীভাবে রংপুর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের একটি পরিত্যক্ত ভবনে উপাচার্য মহোদয় একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন ও প্রাথমিক কাজ শুরু করেন।

কারমাইকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. দীপকেন্দ্র নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তার সহযোগীদেরকে সাথে নিয়ে ব্যাপক সহযোগিতা করে প্রথম বছরের ভর্তির কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করেন। এই সেই বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীদের আগে ভর্তি করানো হয়েছে পরে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তৎকালীন প্রথম উপাচার্য রিকশায় করে মানহীন চেয়ার টেবিলে বসে ধার করা পরিত্যক্ত ভবনে অফিস করা শুরু করলেন। প্রথম রেজিষ্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া। প্রথম ট্রেজারর হিসেবে নিয়োগ পান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।প্রথম শিক্ষক গণিত বিভাগের ড. মোঃ তাজুল ইসলাম, প্রথম কর্মকর্তা হারুন তারিফ জয়। প্রথম কর্মচারী ফজলু মিয়া।

২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ৬টি বিভাগ, ভর্তিকৃত ৩০০ জন শিক্ষার্থী ১২ জন শিক্ষক নিয়ে কাঁঠাল তলার টিটি কলেজের পরিত্যক্ত ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের গবেষক ও প্রথিতযশা অধ্যাপক ড. আবদুল জলিল মিয়া। ওনার দৃঢ় নেতৃত্বে পরবর্তীতে ৬ অনুষদ এবং ২১ টি বিভাগ খোলা হয়।ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সর্বাধিক জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হয় এই সময়ে। ২০০৮ সালের ১২ ই অক্টোবর রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও ২০০৯ সালে এর নাম পরিবর্তন করে নারী জাগরণের অগ্রদূত, মহীয়সী নারীর নামে নামকরণ করা হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ৪ ই জানুয়ারি ২০১১ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৫ একরের স্থায়ী ক্যাম্পাসের শুভ উদ্বোধন করেন। ২০১১ সালে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি চারটি একাডেমিক ভবন এবং প্রশাসনিক ভবন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। আজ সেই বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ বছর পূর্তি করবে।

নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অসীমের সন্ধান করে চলছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দেশে এবং দেশের বাহিরে নানা জায়গায় নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর বহন করে চলছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও দেশের বাহিরে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতিমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা, শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতি খেলাধুলায় অনেক সুনাম অর্জন করেছে। আলোকিত সুনাগরিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩৬ হাজার নানা প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সহযোগিতায় প্রফেসর ডক্টর তুহিন ওয়াদুদের নেতৃত্বে এ বৃক্ষরোপণ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ এর অসামান্য কাজটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুধীজনদের সহযোগিতায় সুসম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম পর্যায়ের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবচাইতে প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিনন্দন এক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার্থে অর্জন করেছে প্রধানমন্ত্রী এবং দ্বিজেন শর্মা পুরস্কার। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের নীলাভূমির দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থান করে নিয়েছে সমসাময়িকদের শীর্ষে। জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান সৃষ্টি এবং বিতরণে নিরলসভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভর্তি হয়েছে ১৩ টি ব্যাচ। 

তৃতীয় উপাচার্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দক্ষ প্রক্টর ও জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর ঊন নবী।  চতুর্থ উপাচার্য  ছিলেন জানিপপের চেয়ারম্যান ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।পঞ্চম বা বর্তমান উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বনামধন্য অধ্যাপক ডক্টর মোঃ হাসিবুর রশীদ।দায়িত্ব গ্রহণের পরেই যিনি একাডেমিক দিকে বিশেষ দৃষ্টিপাত করেছেন। যিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর শিক্ষক, শিক্ষার্থী কর্মকর্তা, কর্মচারীদের যথেষ্ট আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে করোনা পরবর্তী সময়ে উপাচার্য মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনায় অনলাইনে সকল বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা দ্রুততার সহিত নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফলও প্রকাশ হচ্ছে স্বল্প সময়ে। উপাচার্য মহোদয়ের দক্ষ প্রচেষ্টায় কাজটি সম্ভব হয়েছে।বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অর্জন সেশনজট  নিরসন করার সাথে সাথে ক্যাম্পাস স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসা। 

প্রথম উপ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ডক্টর শরিফা সালোয়া ডিনা। নতুন কোষাধক্ষ্য হিসেবে সদ্য নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিথ যশা অধ্যাপক ডক্টর মুজিব উদ্দিন আহমেদ। বর্তমান উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডক্টর মোঃ হাসিবুর রশিদ স্যারের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।বর্তমান উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার মহোদয় সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যা আমাদের আশার সঞ্চার করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ টি বিভাগ, পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার নামে রয়েছে একটি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ৩ টি আবাসিক হল, একটি লাইব্রেরী একটি ক্যাফেটরিয়া, একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ, বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা ১৮৭ জন, কর্মকর্তা ১৩১ জন, কর্মচারী ৪৪৯ জন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উপাদান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮৫০০। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে সেশনজট মুক্ত একটি গতিশীল ক্যাম্পাস হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিতি  লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। 

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যুগের চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে আধুনিক এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু গ্রাজুয়েট সৃষ্টি করে না। বিশ্ববিদ্যালয় ভালো মানুষ তৈরীর কারখানা। দক্ষ ও যোগ্য মানুষ তৈরি করার জন্য ভালো শিক্ষক নিয়োগের কোন বিকল্প নাই । একজন শিক্ষক আলোকবর্তিকার নেয় । ভালো শিক্ষক এবং গবেষক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এ অতীব প্রয়োজন । একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত আয়োজন হওয়া উচিত শিক্ষার্থী বান্ধব। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফোকাস থাকা উচিত গবেষণা ও যুগোপযোগী শিক্ষা । এক্ষেত্রে সুন্দর পরিবেশ, অত্যাধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করার প্রয়োজন আছে। ছাত্র অনুপাতে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের অনুকূল পরিবেশ প্রদান করা অপরিহার্য । বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও গবেষণাগারের বিকল্প নেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরো বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় ব্রান্ডিং হয়। সেশনজট নিরসন করার সাথে সাথে গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা দান করা হোক আমাদের উদ্দেশ্য। বর্তমান চাকরির বাজারে নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্রাজুয়েট সৃষ্টি করা দরকার ।একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো ব্র্যান্ডিং করার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী এক একজন সিপাহসালার হিসেবে ভূমিকা পালন করে । বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে দেশ এবং দেশের বাইরে যোগ্যতম শিক্ষার্থী ও মানবসম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আরো অনেক দূর যেতে হবে।

শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রগতি এবং সামাজিক নানা জায়গায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ অবদান গুরুত্বের সহিত পালন করে যাচ্ছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচাইতে বড় শক্তি হচ্ছে তার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের গবেষণা এবং নিয়মিত পাঠ দানের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা ক্ষেত্রে আশার সঞ্চার করেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে গবেষণা মাধ্যমে দেশ এবং জাতির সম্মান বৃদ্ধি করছে। অপার সম্ভাবনার নাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। সীমাহীন ভালোবাসা প্রিয় ক্যাম্পাস বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের জন্য সবসময়। সংকট থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু করা এ বিশ্ববিদ্যালটি আরো অনেকদূর এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা। সেজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারী এলাকাবাসী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্বদের যৌথ প্রচেষ্টা অতীব প্রয়োজন। মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে মানবতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যত নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম মানব সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং বিকশিত করার ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে অসামান্য অবদান রেখেছেন তাদের সকলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও নিরন্তর ভালোবাসা। ভালো থাকুক আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস, আলো ছড়াক যুগ যুগ ধরে।সর্বোপরি সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করছি বিশ্ববিদ্যালয়টির। মেধা,মননশীলতার চর্চা,জ্ঞান ও গবেষণায় এগিয়ে যাক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর ।

লেখক: শেখ মাজেদুল হক: সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান,  মার্কেটিং বিভাগ।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।
[email protected] 

 

 

মন্তব্য করুন


Link copied